নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের ১ হাজার ৪০০-এর বেশি স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান এখন নির্বাচনের জন্য পুরোপুরি উপযোগী হয়ে আছে। এসব প্রতিষ্ঠানে ভোটগ্রহণে কোনো ধরনের আইনি জটিলতা, সীমানা বিরোধ বা মামলা সংক্রান্ত বাধা নেই। নির্বাচন কমিশন (ইসি) সূত্রে জানা গেছে, সরকার সবুজ সংকেত দিলেই যেকোনো সময় এসব প্রতিষ্ঠানের নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হতে পারে।
ইসির মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের পাঠানো তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ১২টি সিটি করপোরেশন, ৪৫০টির বেশি উপজেলা পরিষদ, ৩৩০টির মধ্যে প্রায় সবকটি পৌরসভা, ৬১টি জেলা পরিষদ এবং প্রায় ৬০০টি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত। এছাড়া আগামী জুলাই মাসের মধ্যে আরও ২ হাজার ৮০০-এর বেশি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের উপযোগী হবে। তবে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো চিঠি না আসায় কমিশন তফসিল ঘোষণার চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারছে না।
এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ গণমাধ্যমকে বলেন, “আমরা মাঠ পর্যায় থেকে সব ধরনের তথ্য সংগ্রহ করছি। প্রয়োজনীয় সব তথ্য যাচাই-বাছাই শেষে নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক কাজ শুরু হবে। তবে সিটি করপোরেশন, উপজেলা নাকি ইউনিয়ন পরিষদ—কোনটির ভোট আগে হবে, তা সরকারের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতেই ঠিক করা হবে। আমাদের পক্ষ থেকে সব ধরনের প্রস্তুতি এগিয়ে রাখা হয়েছে।”
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তী সরকার দেশের সিটি করপোরেশন, জেলা পরিষদ, পৌরসভা ও উপজেলা পরিষদ ভেঙে দিয়েছিল। এসব প্রতিষ্ঠানে তখন প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়। পরবর্তীতে বিএনপি সরকার গঠনের পর সিটি করপোরেশন ও জেলা পরিষদের প্রশাসক পদে আমলাদের সরিয়ে দলীয় নেতাদের দায়িত্ব দেয়। এ নিয়ে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা-সমালোচনা চললেও এখন পর্যন্ত নির্বাচনের বিষয়ে চূড়ান্ত কোনো নির্দেশনা দেয়নি সরকার। তবে বিরোধী দলের পক্ষ থেকে দ্রুত নির্বাচনের জন্য চাপ রয়েছে।
ইসি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পরিষদ ভেঙে দেওয়ার ১৮০ দিনের মধ্যে নির্বাচন করার আইনি বাধ্যবাধকতা থাকলেও জাতীয় নির্বাচনের অগ্রাধিকার ও রাজনৈতিক দলগুলোর মতপার্থক্যের কারণে স্থানীয় সরকারের ভোট সময়মতো করা সম্ভব হয়নি। তবে মালামাল কেনাকাটা থেকে শুরু করে বাজেটের সংস্থান—সবই সম্পন্ন করে রেখেছে ইসি।
সিটি করপোরেশনের ক্ষেত্রে মাঠ পর্যায়ের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ, চট্টগ্রাম, সিলেট, রাজশাহীসহ ১২টি সিটিতেই ভোটের কোনো আইনি বাধা নেই। গত ১৯ আগস্ট ১২টি সিটির মেয়রদের অপসারণ করার পর ১৮০ দিনের সময়সীমা পার হয়ে গেছে। একইভাবে ৬১টি জেলা পরিষদ এবং ৪৯৫টি উপজেলার মধ্যে ডাসার ও নারায়ণগঞ্জ সদর বাদে বাকি সবখানেই নির্বাচনের পরিবেশ রয়েছে। পৌরসভার ক্ষেত্রেও পিরোজপুরের মঠবাড়ীয়া, চাঁদপুরের নারায়ণপুর, চট্টগ্রামের হাটহাজারী ও হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জ বাদে বাকি ৩৩০টি পৌরসভা নির্বাচনের উপযোগী।
ইউনিয়ন পরিষদের ক্ষেত্রে দেখা গেছে, দেশে প্রায় সাড়ে চার হাজার ইউপি রয়েছে। এর মধ্যে ৬০০ ইউপির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগের ১৮০ দিনের ক্ষণগণনা শুরু হয়ে গেছে। পর্যায়ক্রমে মে, জুন ও জুলাই মাসে আরও প্রায় ২ হাজার ৮০০ ইউপি নির্বাচনের তালিকায় যুক্ত হবে। অন্তর্বর্তী সরকার ইউপি চেয়ারম্যানদের অপসারণ না করায় এসব পরিষদের নির্বাচন নিয়মিত নিয়মেই অনুষ্ঠিত হতে পারে।
সরকার জনস্বার্থ, পাবলিক পরীক্ষা ও আবহাওয়া বিবেচনা করে বছরের শেষ নাগাদ এই নির্বাচনী মহাযজ্ঞ শুরু করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ইসি সচিবালয় জানিয়েছে, সরকারের পক্ষ থেকে নির্দেশনা পাওয়ামাত্রই দ্রুততম সময়ে তফসিল ঘোষণার সক্ষমতা তাদের রয়েছে।