অতিরিক্ত কাজ কেড়ে নিচ্ছে প্রাণ: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গবেষণায় উদ্বেগজনক তথ্য

অতিরিক্ত কাজ কেড়ে নিচ্ছে প্রাণ: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গবেষণায় উদ্বেগজনক তথ্য

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা: অফিসে নির্ধারিত আট ঘণ্টা কাজের নিয়ম থাকলেও অতিরিক্ত সময় বা ওভারটাইম করার প্রবণতা বিশ্বজুড়ে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) এবং আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) সাম্প্রতিক এক যৌথ গবেষণায় দেখা গেছে, সপ্তাহে ৫৫ ঘণ্টা বা তার বেশি সময় কাজ করার ফলে স্ট্রোক ও হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে বছরে লাখ লাখ মানুষের মৃত্যু হচ্ছে। গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, ২০১৬ সালে এই দীর্ঘ কর্মঘণ্টার কারণে বিশ্বে ৭ লাখ ৪৫ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ৩৯ শতাংশই স্ট্রোক এবং ৩৫ শতাংশ হৃদরোগজনিত কারণে প্রাণ হারিয়েছেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দীর্ঘ সময় কাজ করার ফলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির শিকার হচ্ছে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের মানুষ। বিশেষ করে মধ্যবয়সী বা বয়স্ক পুরুষদের মধ্যে এই মৃত্যুর হার সবচেয়ে বেশি। গবেষণায় দেখা গেছে, যারা সপ্তাহে ৩৫ থেকে ৪০ ঘণ্টা কাজ করেন, তাদের তুলনায় সপ্তাহে ৫৫ ঘণ্টা বা তার বেশি কাজ করা ব্যক্তিদের স্ট্রোকের ঝুঁকি ৩৫ শতাংশ এবং হৃদরোগে মৃত্যুর ঝুঁকি ১৭ শতাংশ বেড়ে যায়। জাপানে এই ধরণের অতিরিক্ত পরিশ্রমজনিত মৃত্যুকে ‘কারোশি’ বলা হয়, যা বর্তমানে একটি বৈশ্বিক সমস্যায় পরিণত হয়েছে।

গবেষকরা বলছেন, দীর্ঘ সময় কাজ করলে দুইভাবে স্বাস্থ্যের ক্ষতি হয়। প্রথমত, মানসিক ও শারীরিক চাপের কারণে সরাসরি হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস দেখা দেয়। দ্বিতীয়ত, কাজের চাপে মানুষ ধূমপান, মদ্যপান, অনিদ্রা ও অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসে অভ্যস্ত হয়ে পড়ে, যা দীর্ঘমেয়াদে মৃত্যুর ঝুঁকি বাড়ায়। করোনাকালীন লকডাউনের পর থেকে বিশ্বজুড়ে কাজের সময় আরও প্রায় ১০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, অতিরিক্ত কাজ উৎপাদনশীলতা কমানোর পাশাপাশি কর্মীদের ডিপ্রেশন বা মানসিক অবসাদের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কর্মঘণ্টা সীমিত করা এবং কর্মীদের ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যকে অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস

  জান্নাত  /সকালবেলা

মন্তব্য করুন