দাওরায়ে হাদিস শেষ করে ওমরাহ করলেন ২ অন্ধ হাফেজ

দাওরায়ে হাদিস শেষ করে ওমরাহ করলেন ২ অন্ধ হাফেজ

নিজস্ব প্রতিবেদক: তারা পৃথিবীর ধুলোবালি বা দৃশ্যমান কোনো আলো দেখেনি, কিন্তু তাদের আঙুলের ডগা যখন ব্রেইল কুরআনের প্রতিটি বিন্দু স্পর্শ করে, তখন তারা অনুভব করেন আরশের মালিকের নূর। রাজধানী ঢাকার দক্ষিণখানের ‘মাদ্রাসাতুর রহমান আল আরাবিয়া’র অন্ধ বিভাগের দুই অদম্য মেধাবী ছাত্র হাফেজ জুবায়ের ও হাফেজ আব্দুর রহমান এবার কওমি শিক্ষার সর্বোচ্চ স্তর ‘দাওরায়ে হাদিস’ (মাস্টার্স) সম্পন্ন করে এক অনন্য ইতিহাস গড়েছেন।

দৃষ্টিহীন এই দুই শিক্ষার্থী হাজার হাজার পৃষ্ঠা আর লক্ষ লক্ষ হাদিসের অমিয় বাণী মুখস্থ করেছেন কেবল আঙুলের ডগা দিয়ে। কিতাব পড়ার জন্য যে চোখের জ্যোতির চেয়ে হৃদয়ের ব্যাকুলতা বেশি প্রয়োজন, তারা তা বিশ্বকে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছেন। তাদের এই অদম্য সাধনার পুরস্কার হিসেবে তারা সম্প্রতি পবিত্র ওমরাহ পালন করে দেশে ফিরে এসেছেন।

যারা কোনোদিন দুনিয়ার মানচিত্র দেখেনি, তারা হৃদয় দিয়ে অনুভব করেছেন কাবার শীতল গিলাফ। কাবার দেয়ালে হাত রেখে তাদের সেই প্রাপ্তি পৃথিবীর কোটি চোখের চেয়েও দামী বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক ড. মোস্তফা মঞ্জুর এই উদ্যোগের প্রশংসা করে বলেন, বাংলাদেশে দৃষ্টিহীনদের জন্য ব্রেইল পদ্ধতির পাশাপাশি বধির শিক্ষার্থীদের জন্য সাইন ল্যাঙ্গুয়েজ বা ইশারা ভাষার মাধ্যমে এমন ধর্মীয় শিক্ষার ব্যবস্থা সত্যিই বিরল ও অসাধারণ।

মাদরাসাতুর রহমান আল আরাবিয়ার মুহতামিম বখতিয়ার হুসাইন সরদার বলেন, “এই অবহেলিত মানুষগুলো সুযোগ পেলে জাতির শ্রেষ্ঠ সম্পদ হতে পারে। বর্তমানে অন্ধ ও বধির শিক্ষার্থীরা একই ভবনে থাকলেও, তাদের মানসিক বিকাশের জন্য আলাদা আবাসিক ও একাডেমিক ভবন স্থাপন এখন সময়ের দাবি।”

দৃষ্টিহীন এই দুই হাফেজের ওমরাহ পালন ও দাওরায়ে হাদিস সম্পন্ন করার ঘটনাটি সারা দেশের আলেম সমাজ ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে।

বি.নি/সকালবেলা

মন্তব্য করুন