ভিডিও
স্টোরি
ফটো স্টোরি
ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্টের ধরন বিশ্লেষণ করে তার সম্ভাব্য আঘাত বা মৃত্যুকে ঘিরে নতুন করে জল্পনা তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন হিব্রু ও ইংরেজি ভাষাভাষী গণমাধ্যমে এ বিষয়টি নিয়ে আলোচনা বাড়ছে।
ইরানি সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজের প্রতিবেদনের তথ্যমতে, নেতানিয়াহুর সামাজিক মাধ্যমে পোস্টের প্রবণতা পর্যবেক্ষণ করে দেখা গেছে যে ২০২৫ সালের জুনে ইরানের সঙ্গে সংঘটিত ১২ দিনের যুদ্ধের সময়কার কার্যক্রম এবং ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া বর্তমান যুদ্ধের সময়কার পোস্টের মধ্যে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য রয়েছে। এই পার্থক্য থেকেই সাম্প্রতিক জল্পনার উৎস নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
তাসনিমের হিব্রু ওয়েবসাইটের প্রতিবেদকদের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জুনে সংঘটিত ১২ দিনের যুদ্ধের সময় নেতানিয়াহু তার ব্যক্তিগত চ্যানেলে প্রতিদিন অন্তত একটি পোস্ট করতেন, আর কিছু দিনে পোস্টের সংখ্যা ছয়টি পর্যন্ত পৌঁছাত। উদাহরণ হিসেবে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৫ সালের ১৩ মার্চ তিনি তিনটি পোস্ট করেন, ১৪ মার্চ একটি এবং ১৫ মার্চ চারটি পোস্ট দেন। এরপর ২৩ জুন পর্যন্ত পরবর্তী দিনগুলোতে তার পোস্টের সংখ্যা ছিল যথাক্রমে দুই, এক, চার, তিন, দুই, দুই, ছয় এবং চারটি। সব মিলিয়ে ওই ১২ দিনের যুদ্ধের সময় নেতানিয়াহুর মোট পোস্টের সংখ্যা ছিল ৩২টি। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, সেই সময় তার অধিকাংশ পোস্টই ছিল তার নিজের প্রকাশ করা ভিডিও।
তবে ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধের পর থেকে তার সামাজিক মাধ্যম কার্যক্রমে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখা গেছে। সংঘাতটি ২০২৫ সালের ১২ দিনের যুদ্ধের তুলনায় চার দিন বেশি সময় ধরে চললেও তার পোস্টের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। বিশ্লেষণে তিনটি প্রধান পরিবর্তনের কথা উল্লেখ করা হয়েছে—
প্রথমত, আগের সংঘাতের সময় যেখানে তার মোট পোস্ট ছিল ৩২টি, সেখানে বর্তমান সংঘাতে সেই সংখ্যা ৫০ শতাংশেরও বেশি কমে ১৫টিতে নেমে এসেছে।
দ্বিতীয়ত, আগের যুদ্ধে তিনি প্রতিদিন অন্তত একটি পোস্ট করলেও এবার প্রায় তিন দিন ধরে তার নতুন কোনো পোস্ট প্রকাশিত হয়নি। পাশাপাশি কয়েকজন বিশেষজ্ঞের মতে, সর্বশেষ প্রকাশিত ভিডিওটিও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে তৈরি হতে পারে এবং সেটি বাস্তব নয়।
তৃতীয়ত, আগের সংঘাতে তার বেশিরভাগ পোস্টে ব্যক্তিগত ভিডিও থাকলেও সাম্প্রতিক পোস্টগুলো মূলত লিখিত। যে কয়েকটি ভিডিও প্রকাশ করা হয়েছে, সেগুলো কবে ধারণ করা হয়েছে বা কোন পরিস্থিতিতে ধারণ করা হয়েছে—সেটি স্পষ্ট নয় এবং ভিডিওগুলোতে ধারণের তারিখ বা প্রেক্ষাপটের কোনো ইঙ্গিত নেই।
এই প্রবণতাগুলোর সমন্বয় নেতানিয়াহুর স্বাস্থ্য নিয়ে জল্পনাকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে। তবে এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে ইহুদিবাদী শাসনের শাসকগোষ্ঠীর পক্ষ থেকে কোনো উল্লেখযোগ্য প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। ফলে নেতানিয়াহুর সম্ভাব্য মৃত্যু বা তিনি জীবিত আছেন কি না—এ বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ বা অস্বীকার করা হয়নি। বর্তমানে এসব আলোচনা মূলত দৃশ্যমান বিভিন্ন লক্ষণ ও পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতেই তৈরি হচ্ছে।
উল্লেখ্য, ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র যৌথ হামলা চালায়। এতে সর্বোচ্চ নেতা খামেনিসহ অনেকে নিহত ও আহত হন। জবাবে ইরান মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটি ও ইসরায়েলকে লক্ষ্যবস্তু করে পাল্টা হামলা চালায়। এতে নেতানিয়াহুর কার্যালয়ে হামলার দাবিও করে ইরান।
আই.এ/সকালবেলা
| আজকের তারিখঃ বঙ্গাব্দ