ভিডিও
স্টোরি
ফটো স্টোরি
মোঃ কারিমুল ইসলাম, মোংলা : সুন্দরবনে অগ্নিকাণ্ড প্রতিরোধে এবং শুষ্ক মৌসুমের আগাম সতর্কতায় ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা ও তদারকি শুরু করেছে বনবিভাগ। রবিবার (১৫ মার্চ ২০২৬) বিকাল ৩টায় মোংলা উপজেলার সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের চাঁদপাই রেঞ্জ ও সহ-ব্যবস্থাপনা কমিটির উদ্যোগে এই জনসচেতনতামূলক কার্যক্রমের আয়োজন করা হয়।
বনবিভাগের তথ্যমতে, গত ২৩ বছরে পূর্ব সুন্দরবনে মোট ৩০ বার অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মার্চ থেকে মে মাসের মধ্যবর্তী সময়েই বনে আগুনের প্রকোপ সবচেয়ে বেশি থাকে। সবশেষ গত বছরের ২২ মার্চ চাঁদপাই রেঞ্জে কয়েক দফা অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছিল।
স্থানীয় গ্রামবাসীদের অভিযোগ, সুন্দরবনে প্রাকৃতিকভাবে আগুন লাগে না। এক শ্রেণির অসাধু চক্র শুষ্ক মৌসুমে বনে আগুন লাগিয়ে ছাই তৈরি করে রাখে। বর্ষাকালে যখন বনভূমি প্লাবিত হয়, তখন সেই ছাই খেতে আসা কৈ, মাগুর ও শিং মাছ ধরার জন্য তারা এই অপকর্ম করে থাকে। এই চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
আগুন প্রতিরোধে এবার বনবিভাগ নজিরবিহীন কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে:
মাইকিং ও লিফলেট: সুন্দরবন সংলগ্ন বৈদ্যমারী, নিশানবাড়ীয়া, গুলিশাখালী, আমুরবুনিয়া, ধানসাগর ও রাজাপুরসহ বিভিন্ন হাট-বাজারে সচেতনতামূলক প্রচারণা চালানো হচ্ছে।
মসজিদে প্রচারণা: জুমার খুতবায় ইমামদের মাধ্যমে বনের আগুন প্রতিরোধের গুরুত্ব তুলে ধরা হচ্ছে।
ড্রোন পর্যবেক্ষণ: নিয়মিতভাবে ড্রোন উড়িয়ে বনের অভ্যন্তরে নজরদারি করছেন বনরক্ষীরা।
দাহ্য পদার্থে নিষেধাজ্ঞা: জিউধরা, চিলা, জয়মনি ও কটকা প্রবেশপথে জেলে ও বাওয়ালিদের বিড়ি-সিগারেট বা যেকোনো দাহ্য বস্তু নিয়ে প্রবেশে কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।
চাঁদপাই রেঞ্জ কর্মকর্তা দীপন চন্দ্র দাস বলেন:
“বিগত দুই দশকের অগ্নিকাণ্ডে বনের অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে। তদন্তে স্থানীয় কিছু দুর্বৃত্ত চক্রের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে। এবার আমরা প্রতিরোধের ওপর সবচেয়ে বেশি জোর দিচ্ছি। স্থানীয়দের সহযোগিতা ছাড়া এই বিশাল বন রক্ষা করা অসম্ভব।”
জিউধরা গ্রামের বাসিন্দা আবু হাসান এই উদ্যোগকে সমর্থন জানিয়ে বলেন, “সুন্দরবন আমাদের মা ও জীবন-জীবিকা। সামান্য মাছ ধরার লোভে যারা বন পোড়ায়, তাদের কঠোর শাস্তি হওয়া উচিত।”
জলবায়ু পরিবর্তন ও মানুষের সীমাহীন লোভের কারণে সুন্দরবনের পাখির প্রজাতি ৪০০ থেকে ২৭০-এ নেমে এসেছে। বিষ দিয়ে মাছ শিকার এবং বন্যপ্রাণী হত্যার কারণে হুমকির মুখে পড়েছে জীববৈচিত্র্য। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সুরক্ষা ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির অন্যতম রক্ষাকবচ এই বন বাঁচাতে বনবিভাগের সাথে ভিটিআরটি ও সিপিজি সদস্যরাও মাঠে কাজ করছেন।
প্রচারণা অনুষ্ঠানে জিউধরা স্টেশন কর্মকর্তা শাহাদাৎ হোসেন, সহ-ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি মোঃ ফারুক হাওলাদারসহ প্রশাসনিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
| আজকের তারিখঃ বঙ্গাব্দ