ভিডিও
স্টোরি
ফটো স্টোরি
রিপন হালদার, স্টাফ রিপোর্টার: মোংলায় জ্বালানি তেল তথা পেট্রোল ও অকটেনের সংকট চরম আকার ধারণ করেছে।
রোববার (১৫ মার্চ ২০২৬) মোংলা বাজারের বিভিন্ন জ্বালানি তেল বিক্রয়কেন্দ্র ঘুরে দেখা গেছে, অধিকাংশ পাম্পে পেট্রোল বা অকটেন নেই। ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন শত শত মোটরসাইকেল চালকসহ সাধারণ পরিবহন মালিকরা।
জ্বালানি তেল না পেয়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন ভুক্তভোগীরা। কেউ অভিযোগ করছেন, অসাধু বিক্রেতারা মজুদ করে কৃত্রিম সংকট তৈরি করছে। আবার অনেকে তেল ডিপোগুলোর সরবরাহ ব্যবস্থাকে দায়ী করছেন। মোটরসাইকেল চালকদের দীর্ঘ লাইন দেখা গেলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রেই পাম্প মালিকরা ‘তেল নেই’ বলে ফিরিয়ে দিচ্ছেন। তবে বাজারের বাইরে কিছু খুচরা দোকানে সীমিত পরিসরে তেল পাওয়া গেলেও তা চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে সরবরাহ সচল রাখতে গত ৬ মার্চ থেকে দেশে জ্বালানি তেলের ‘রেশনিং’ পদ্ধতি (মোটরসাইকেলে ৫ লিটারের সীমা) চালু করেছিল সরকার। তবে আজ রোববার (১৫ মার্চ) সকাল থেকেই সারা দেশে এই রেশনিং ব্যবস্থা প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।
সরকারিভাবে দাবি করা হচ্ছে, দেশে পেট্রোল ও অকটেনের পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে এবং নতুন তেলের জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছেছে। কিন্তু মাঠ পর্যায়ের চিত্র ভিন্ন। মোংলার ফিলিং স্টেশন মালিকদের দাবি, ডিপো থেকে চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ না পাওয়ায় তারা পাম্প সচল রাখতে পারছেন না।
সংকট বিষয়ে জানতে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের (বিপিসি) মোংলা অয়েল ইনস্টলেশন-এর অফিশিয়াল নম্বরে যোগাযোগ করা হলে, সেখান থেকে কোনো সদুত্তর পাওয়া যায়নি। বরং যিনি কলটি রিসিভ করেছেন তিনি সংশ্লিষ্ট কেউ নন বলে দাবি করেন এবং তথ্য দিতে অস্বীকৃতি জানান।
এদিকে তেলের বাজার নিয়ন্ত্রণে জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) ৯টি নির্দেশনা দিয়েছেন জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী। এর মধ্যে রয়েছে— প্রতিদিন ডিপোর মজুদ যাচাই, অবৈধ মজুদদারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া এবং অতিরিক্ত দাম নিলে শাস্তি নিশ্চিত করা। মোংলার সাধারণ মানুষ এই নির্দেশনাগুলোর দ্রুত বাস্তবায়ন ও বাজার স্বাভাবিক করার দাবি জানিয়েছেন।
| আজকের তারিখঃ বঙ্গাব্দ