নির্বাচনী সহিংসতা: চড় মারার কথা স্বীকার করেও মুক্ত বিএনপি নেতা

নির্বাচনী সহিংসতা: চড় মারার কথা স্বীকার করেও মুক্ত বিএনপি নেতা

নির্বাচনী সহিংসতা: হাসপাতালে দুই বছরের সন্তানের কান্না, চড় মারার কথা স্বীকার করেও মুক্ত বিএনপি নেতা

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজশাহী-৩ (পবা-মোহনপুর) আসনে ফুটবল প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী হাবিবা বেগমের ওপর বর্বরোচিত হামলার ঘটনায় এক চরম অমানবিক দৃশ্য ফুটে উঠেছে। ভোটকেন্দ্রের সামনে প্রকাশ্য দিবালোকে চড়-থাপ্পড় মারার পর আহত হাবিবা এখন রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের শয্যায় শায়িত। অথচ ঘটনার ২৪ ঘণ্টা পার হলেও পুলিশ মামলা নেয়নি বলে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।

আজ শুক্রবার দুপুরে রামেক হাসপাতালের ৫ নম্বর কেবিনে গিয়ে দেখা যায় এক হৃদয়বিদারক দৃশ্য। চিকিৎসকের দেওয়া কড়া ঘুমের ওষুধের প্রভাবে গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন হাবিবা। তাঁর দুই বছর বয়সী শিশু সন্তানটি মায়ের কাছে যাওয়ার জন্য ক্রমাগত চিৎকার করে কাঁদছে। বাবা মাসুদ রানা শিশুটিকে সামলানোর চেষ্টা করলেও অবুঝ সন্তানটি বারে বারে মায়ের নিথর শরীরের দিকেই হাত বাড়াচ্ছে। দীর্ঘ আইনি লড়াই শেষে প্রার্থিতা ফিরে পাওয়া এই নারী প্রার্থীর এমন পরিণতি নির্বাচনী এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।

 হামলার সময়কার ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, হরিয়ান ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি রজব আলী হাবিবা বেগমকে সজোরে একের পর এক চড় মারছেন। অভিযুক্ত রজব আলী ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে দাম্ভিকতার সাথে বলেন, “ভোটের দিন ভোট চাওয়া ঠিক নয়, নিষেধ করতে গেলে গালি দেওয়ায় আমি থাপ্পড় মেরেছি। কাল বিএনপি সরকার গঠন করবে, এখন ও মামলা করুক বা যা খুশি করুক।”

 হাবিবার প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট মো. আকবর হোসেন অভিযোগ করেন, ঘটনার দিনই কাটাখালী থানায় মামলা করতে গেলেও ‘ওসি নেই’ অজুহাতে মামলা রেকর্ড করা হয়নি। অথচ ওসি সুমন কাদেরী শুক্রবার দুপুরে জানান, তিনি ভিডিও দেখেছেন এবং ব্যস্ততার কারণে অভিযোগটি এখনও দেখে উঠতে পারেননি। পুলিশের এমন রহস্যময় নীরবতার মুখে হাবিবার প্রতিনিধিরা রিটার্নিং অফিসার ও জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

হাইকোর্টের আদেশে ভোটের মাত্র ৬ দিন আগে প্রতীক বরাদ্দ পাওয়া হাবিবা বেগম প্রচারণার তেমন সুযোগ পাননি। যেখানে বড় দলগুলোর প্রার্থীরা দাপটের সাথে প্রচার চালিয়েছেন, সেখানে এই একমাত্র নারী প্রার্থী কোলের শিশুকে নিয়ে পথে পথে ঘুরে ভোট চেয়েছেন। নির্বাচনের দিন তাঁর ওপর এই শারীরিক লাঞ্ছনা কেবল একজন প্রার্থীর ওপর হামলা নয়, বরং গণতন্ত্রের মৌলিক অধিকারের ওপর চরম আঘাত বলে মনে করছেন সাধারণ ভোটাররা।

রাজশাহীর রিটার্নিং কর্মকর্তা আফিয়া আখতার জানিয়েছেন, তিনি ভিডিও দেখেছেন এবং হাবিবা বেগমকে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে অভিযোগ করার পরামর্শ দিয়েছেন।


এম.এম/সকালবেলা

মন্তব্য করুন