বর্তমান সচিবালয়ে বন্ধ নতুন ভবন নির্মাণ: স্থানান্তরের ডিপিপি প্রণয়নে পরিকল্পনা কমিশন
অনলাইন ডেস্ক: রাজধানীর যানজট নিরসন এবং প্রশাসনিক সেবা অধিকতর সুসংহত ও আধুনিকীকরণের লক্ষ্যে দেশের মূল প্রশাসনিক প্রধান কার্যালয়—বাংলাদেশ সচিবালয় সরিয়ে নেওয়ার মহাপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সরকার। বর্তমানের পুরান ঢাকার নিকটবর্তী আবদুল গনি রোড থেকে সরিয়ে এটি রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে প্রস্তাবিত নতুন চত্বরে স্থাপন করা হবে।
একই সাথে সেবার সুষম পরিবেশ ও ঐতিহাসিক গুরুত্ব রক্ষার্থে আবদুল গনি রোডের বর্তমান সচিবালয় সীমানার ভেতরে নতুন করে আর কোনো বহুতল ভবন নির্মাণ না করার নীতিগত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।
সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আয়োজিত এক বিশেষ প্রশাসনিক পর্যালোচনার বৈঠকে সচিবালয় স্থানান্তরের এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই শীর্ষ সভায় গণপূর্ত মন্ত্রণালয়, গণপূর্ত অধিদপ্তর ও স্থাপত্য অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
প্রকল্প সূত্র জানায়, সচিবালয় স্থানান্তরের উদ্যোগটিকে ত্বরান্বিত করতে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) নতুন প্রকল্প হিসেবে অন্তর্ভুক্তির উদ্দেশ্যে ইতোমধ্যে গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে পরিকল্পনা কমিশনকে প্রাতিষ্ঠানিক প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। অচিরেই পরিকল্পনা কমিশনে এ বিষয়ে একটি আন্তমন্ত্রণালয় পর্যালোচনা সভা আহ্বান করার সিদ্ধান্ত রয়েছে।
নতুন আধুনিক সচিবালয় কমপ্লেক্স নির্মাণের উদ্দেশ্যে ইতোমধ্যে প্রাতিষ্ঠানিক 'উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব' (ডিপিপি) তৈরির কাজ শুরু করেছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো। সরকারি আবাসন ও গণপূর্ত অধিদপ্তর শেরেবাংলা নগরের নির্ধারিত জায়গায় প্রস্তাবিত প্রশাসনিক ভবনগুলোর অবস্থান সুনির্দিষ্ট করে একটি প্রাথমিক নকশা বা লে-আউট প্রস্তুত করেছে।
গৃহায়ণ ও গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মো. খালেকুজ্জামান চৌধুরী সংবাদমাধ্যমকে সার্বিক অগ্রগতির বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, প্রধানমন্ত্রীর সুস্পষ্ট নির্দেশনা ও পরামর্শ অনুসরণ করে সচিবালয় স্থানান্তরের প্রশাসনিক কাজ দ্রুত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। প্রস্তাবিত স্থান ও ভবনের প্রাথমিক নকশা ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রী স্বচক্ষে পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিয়েছেন। প্রাপ্ত দিকনির্দেশনা যুক্ত করে খুব শীঘ্রই চূড়ান্ত প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য পেশ করা হবে।