জ্বালানি তেলের মূল্য সমন্বয় ছাড়া কোনো বিকল্প ছিল না: প্রতিমন্ত্রী

প্রকাশ: সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:১২ অপরাহ্ণ
জ্বালানি তেলের মূল্য সমন্বয় ছাড়া কোনো বিকল্প ছিল না: প্রতিমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ চলমান মধ্যপ্রাচ্য সংকট এবং বিশ্ববাজারে বৈশ্বিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে সরকারকে বাধ্য হয়েই জ্বালানি তেলের মূল্য সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ ইসলাম অমিত।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে তিনি সরকারের এই সিদ্ধান্তের সার্বিক প্রেক্ষাপট ও বাধ্যবাধকতা তুলে ধরে এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী জানান, বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম যেভাবে ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং প্রতিদিন নতুন মাত্রা যোগ হচ্ছে, তাতে এই মুহূর্তে মূল্য সমন্বয় ছাড়া সরকারের সামনে আর অন্য কোনো বিকল্প পথ খোলা ছিল না। তিনি সতর্ক করে বলেন, "আমরা যদি কেবল জ্বালানি তেলেই বড় অঙ্কের ভর্তুকি দেওয়া অব্যাহত রাখতাম, তবে সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা সংক্রান্ত অন্যান্য চলমান উন্নয়ন কর্মসূচির বরাদ্দ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতো।"

আন্তর্জাতিক বাজারের হিসাব দিয়ে তিনি উল্লেখ করেন, দেশে বছরে প্রায় ৭০ লাখ মেট্রিক টন তেল আমদানি করতে হয়, যার মধ্যে ৪৫ লাখ মেট্রিক টনই ডিজেল। আন্তর্জাতিক বাজারে যেখানে প্রতি লিটার ডিজেলের দাম বর্তমানে ২০৫ টাকা, সেখানে দেশে সমন্বয় করার আগে দর ছিল প্রতি লিটার ১১৫ টাকা। ফলে প্রতি লিটারে সরকারকে ৯০ টাকা পর্যন্ত ভর্তুকি গুনতে হচ্ছিল।

তিনি জানান, মূল্য সমন্বয়ের পর লিটারপ্রতি ভর্তুকি কমে ৭০ টাকায় দাঁড়াবে। এই সমন্বয় না করা হলে বছরে সরকারকে একাই কেবল ডিজেলে প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি গুনতে হতো।

এছাড়া দামের ঘাটতির সুযোগে প্রবাসীদের কষ্টার্জিত বৈদেশিক মুদ্রায় কেনা জ্বালানি তেল প্রতিবেশী দেশগুলোতে পাচার হওয়ার বড় একটি ঝুঁকি তৈরি হয়েছিল বলে ইঙ্গিত দেন প্রতিমন্ত্রী। সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে দেশবাসীকে এই জরুরি সিদ্ধান্তের প্রয়োজনীয়তা অনুধাবন করার আহ্বান জানান তিনি।

মন্তব্য করুন