প্রতিবন্ধীদের সুরক্ষা চ্যারিটি নয়, নাগরিক অধিকার: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী
নিজস্ব প্রতিবেদক: বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের প্রাপ্ত সুবিধা ও সুরক্ষাকে করুণা বা 'চ্যারিটি' হিসেবে বিবেচনা না করে, দেশের সংবিধান স্বীকৃত মৌলিক নাগরিক অধিকার হিসেবে দেখছে সরকার। সাধারণ নাগরিকদের মতোই যেন প্রতিবন্ধী প্রতিটি মানুষ পূর্ণ অধিকার ভোগ করতে পারেন, তা নিশ্চিত করতে একাধিক মন্ত্রণালয়ের সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা নিয়ে কাজ শুরু হয়েছে।
বৃহস্পতিবার দুপুরে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত প্রতিবন্ধী অধিকার ও সেবা সুরক্ষা বিষয়ক আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয় ও বাস্তবায়ন কমিটির সভায় এ তথ্য তুলে ধরেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত।
স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী জানান, সমন্বিত উদ্যোগের ইতিবাচক ফল হিসেবে ইতিমধ্যে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে। বর্তমানে বাংলাদেশ রেলওয়ের যেকোনো শ্রেণিতে এবং ঢাকার মেট্রোরেলে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য ভাড়ায় ২৫ শতাংশ ছাড় নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে। এ ছাড়াও গণপরিবহনের স্টেশনগুলোতে কেবল চলাচলের র্যাম্প নয়, বরং টিকেট কাটা থেকে শুরু করে পুরো যাতায়াত ও শৌচাগার ব্যবস্থা যেন প্রতিবন্ধীবান্ধব ও নির্বিঘ্ন হয়, তার তাগিদ দেওয়া হয়েছে।
বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের মূলধারার শিক্ষার সঙ্গে সম্পৃক্ত করার বিষয়টি তুলে ধরে ড. মুহিত বলেন, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বিশেষায়িত স্কুলগুলোকে সুসংগঠিত করা ছাড়াও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের যৌথ উদ্যোগে সাধারণ স্কুলগুলোকে প্রতিবন্ধীবান্ধব করে গড়ে তোলা হচ্ছে। হুইলচেয়ার ব্যবহারকারী শিশুরা যাতে সাধারণ স্কুলে পড়াশোনার সুযোগ থেকে বঞ্চিত না হয়, সেজন্য অবকাঠামোগত পরিবর্তন আনার পাশাপাশি পাঠ্যক্রমে ব্রেইল ও সাইন ল্যাঙ্গুয়েজ অন্তর্ভুক্তির কাজ চলছে।
প্রতিবন্ধীদের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিতে সরকারের নতুন পদক্ষেপ সম্পর্কে তিনি জানান, রাজধানীর কড়াইল বস্তিতে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের জন্য স্বাস্থ্যসেবা প্রকল্প উদ্বোধন করা হয়েছে। পাশাপাশি দেশের ২২টি জেলার ২২টি নির্দিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ‘শিশু স্বর্গ’ প্রকল্পের মাধ্যমে প্রতিবন্ধীদের সার্বিক চিকিৎসা প্রদান করা হবে।
একই সভায় সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন পুতুল গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জানান, ভৌত কাঠামোর উন্নয়নের পাশাপাশি ডিজিটাল মাধ্যমগুলোতেও প্রতিবন্ধীদের প্রবেশগম্যতা নিশ্চিত করা হচ্ছে। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের সুপ্ত প্রতিভাকে কাজে লাগিয়ে এক মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়াই সরকারের মূল উদ্দেশ্য।
|