খামেনির রাষ্ট্রীয় শোক অনুষ্ঠান পেছাল ইরান
আন্তর্জাতিক ডেস্ক:গত ফেব্রুয়ারি মাসে মার্কিন ও ইসরায়েলি যৌথ বাহিনীর আকস্মিক বিমান হামলায় নিহত ইরানের দীর্ঘ ৩৭ বছরের সাবেক সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির রাষ্ট্রীয় শোক ও দাফন অনুষ্ঠান পিছিয়ে দিয়েছে দেশটির সরকার। রাজধানী তেহরানের পৌর মেয়র আলীরেজা জাকানি আজ শুক্রবার (১২ জুন) এক অফিশিয়াল বিবৃতিতে এই স্পর্শকাতর ও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তটি বিশ্ব গণমাধ্যমের সামনে প্রকাশ করেছেন।
আজ শুক্রবার বিকেলে অনলাইন সংস্করণে প্রকাশিত ‘মধ্যপ্রাচ্য ভূ-রাজনীতি, বৈশ্বিক সামরিক খতিয়ান ও আন্তর্জাতিক কূটনীতি’ এবং ‘ইরান উইং, শিয়া মুসলিম ঐতিহ্য ও রাষ্ট্রীয় প্রটোকল ব্যুরো’-এর বিশেষ যৌথ বুলেটিংয়ে তেহরানের এই নতুন সিদ্ধান্তের অভ্যন্তরীণ খতিয়ান বিস্তারিত তুলে ধরা হলো।
ইরানের অন্তর্বর্তী সরকারের পূর্ব সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আরবি বর্ষপঞ্জির প্রথম মাস মহররমের প্রথম ১০ দিনের মধ্যে সর্বোচ্চ নেতার রাষ্ট্রীয় শোক ও সমাহিত করার কথা ছিল। সেই প্রাচীন হিসাব অনুযায়ী চলতি জুন মাসের মাঝামাঝি সময়ে এই মেগা আয়োজন হওয়ার কথা থাকলেও আজ শুক্রবার মেয়র আলীরেজা জাকানি পরিবর্তিত নতুন সময়সূচি ঘোষণা করেন। তিনি জানান, নতুন সিদ্ধান্ত অনুসারে খামেনির রাষ্ট্রীয় শোক অনুষ্ঠান হবে মহররমের দ্বিতীয় ১০ দিনের যেকোনো একটি সুবিধাজনক সময়ে। অর্থাৎ ইংরেজি ক্যালেন্ডার অনুসারে, আগামী ২৬ জুন থেকে ৫ জুলাই—এই ১০ দিনের লজিস্টিক উইন্ডোর মধ্যে খামেনির চূড়ান্ত শোক অনুষ্ঠান ও দাফন সম্পন্ন হবে। মূলত পবিত্র আশুরা বা ১০ই মহররম উপলক্ষে দেশজুড়ে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য বজায় রাখতে এই অনুষ্ঠান পেছানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইসলামি প্রজাতন্ত্রী ইরান সরকার।
ঐতিহাসিক খতিয়ান অনুযায়ী, মহররমের ১০ তারিখ তথা আশুরা বিশ্ব মুসলিম উম্মাহ ও বিশেষ করে শিয়াপন্থি ইরানের নাগরিকদের কাছে অত্যন্ত পবিত্র ও আবেগঘন একটি শোকের দিবস। আজ থেকে প্রায় ১ হাজার ৪০০ বছর আগে ইরাকের ঐতিহাসিক কারবালা প্রান্তরে এজিদ ইবনে মুআবিয়ার নিষ্ঠুর সৈন্যদলের হাতে নির্মমভাবে শহীদ হয়েছিলেন ইসলাম ধর্মের প্রবর্তক হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রিয় দৌহিত্র হযরত ইমাম হোসাইন (রা.)। শিয়াপন্থি ইরানি সংস্কৃতিতে প্রতি বছর এই দিনটি ব্যাপক রাষ্ট্রীয় আড়ম্বর, শোক র্যালি ও ধর্মীয় অনুশাসনের মধ্য দিয়ে পালন করা হয়। একই সময়ে দুটি বড় শোকের আয়োজন মাঠপর্যায়ে বিশৃঙ্খলা তৈরি করতে পারে ভেবেই সরকার এই কৌশলগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
ইরানের পারমাণবিক প্রকল্প ও ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ নিয়ে দীর্ঘদিনের বৈশ্বিক মতবিরোধের জেরে চলতি ২০২৬ সালের গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে এক আকস্মিক ও ভয়াবহ সামরিক অভিযান শুরু করে মার্কিন ও ইসরায়েলি বিমান বাহিনী। অভিযানের প্রথম দিনই তেহরানের সুরক্ষিত বাংকারে শক্তিশালী বাঙ্কার-বাস্টার বোমার আঘাতে স্ত্রী, পুত্রবধূ ও নাতিসহ নির্মমভাবে নিহত হন আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। সেই ভয়াবহ হামলায় খামেনির প্রভাবশালী পুত্র আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি গুরুতর আহত হলেও অলৌকিকভাবে বেঁচে যান। বর্তমানে চোট কাটিয়ে উঠে তিনিই ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতার (Supreme Leader) আসনে আসীন রয়েছেন। বাবার মৃত্যুর পর গত চার মাস ধরে খামেনির মরদেহটি বৈজ্ঞানিক উপায়ে বিশেষ হিমাগারে সংরক্ষিত অবস্থায় রাখা হয়েছে, যা এখনও দাফন করা হয়নি। নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির নির্দেশনায় আগামী ২৬ জুন থেকে শুরু হতে যাওয়া রাষ্ট্রীয় দাফন কার্যক্রমে বিশ্বের বহু দেশের রাষ্ট্রপ্রধানরা অংশ নেবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
জান্নাত সকালবেলা
|