ফ্যাসিবাদী শাসনে শিক্ষাব্যবস্থা ধ্বংস হয়েছে: প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশ: রবিবার, ০৭ জুন ২০২৬, ১২:২৬ অপরাহ্ণ
ফ্যাসিবাদী শাসনে শিক্ষাব্যবস্থা ধ্বংস হয়েছে: প্রধানমন্ত্রী

শিক্ষা প্রতিবেদক : ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরবর্তী নতুন গণতান্ত্রিক সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান (Prime Minister Tarique Rahman) শিক্ষাঙ্গনে বিগত আমলের রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ ও ত্রুটিপূর্ণ কারিকুলামের তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, “বিগত দীর্ঘদিনের ফ্যাসিবাদী ও স্বৈরাচারী শাসন শুধু এ দেশের সাধারণ মানুষের মৌলিক গণতান্ত্রিক, সাংবিধানিক ও রাজনৈতিক অধিকারই কেড়ে নেয়নি; বরং একটি জাতিকে মেরুদণ্ডহীন ও অদক্ষ করে গড়ে তোলার জন্য আমাদের গৌরবময় শিক্ষাব্যবস্থাকেও সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দিয়ে গেছে।”

আজ রবিবার (৭ জুন) দুপুর ১২টা ১৩ মিনিটে অনলাইন সংস্করণে প্রকাশিত ‘শিক্ষা, ক্যাম্পাস ও উচ্চশিক্ষা’ এবং ‘জাতীয় কারিকুলাম সংস্কার, কর্মমুখী দক্ষতা উন্নয়ন ও কলেজ শিক্ষা মনিটরিং উইং’ বিভাগের বিশেষ যৌথ বুলেটিংয়ে চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া দিকনির্দেশনামূলক ভাষণের আদ্যোপান্ত বিস্তারিত তুলে ধরা হলো।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহর সভাপতিত্বে আজ রবিবার সকাল ১০টা থেকে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে (সাবেক চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্র) এক জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। বেলা ঠিক সাড়ে ১১টার দিকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত হয়ে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কারিকুলামে ‘দক্ষতাভিত্তিক ও কর্মমুখী শিক্ষা অন্তর্ভুক্তিকরণ এবং ১২ হাজার শিক্ষকের বিশেষ আইসিটি প্রশিক্ষণ কর্মসূচি’র আনুষ্ঠানিক ও ঐতিহাসিক উদ্বোধন ঘোষণা করেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে দেওয়া ভাষণে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে দেশের আড়াই হাজার কলেজে প্রায় ৪০ লাখ শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছেন, যা দেশের মোট উচ্চশিক্ষার এক বিশাল অংশ। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয়, বিগত ফ্যাসিবাদের আমলে এই বিপুলসংখ্যক তরুণকে শ্রমবাজারের অনুপযোগী করে রাখা হয়েছিল। ডিগ্রি শেষ করেও যুবকেরা দক্ষতার অভাবে বেকার ঘুরছিল।

এই সংকট কাটাতে বর্তমান সরকার, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (ICT) বিভাগ, এটুআই (a2i) এবং ইউনিসেফের যৌথ কারিগরি সহায়তায় উচ্চশিক্ষায় এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনা হচ্ছে। নতুন এই দক্ষতাভিত্তিক পাঠ্যক্রমে এখন থেকে সাধারণ কলেজের শিক্ষার্থীরা প্রাতিষ্ঠানিকভাবে ফ্রিল্যান্সিং, উদ্যোক্তা উন্নয়ন (Entrepreneurship), ডিজিটাল মার্কেটিং, সাইবার নিরাপত্তা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), মেশিন লার্নিং এবং ডাটা সায়েন্সের মতো আন্তর্জাতিক মানের যুগোপযোগী প্রযুক্তিগত বিষয়ে হাতে-কলমে শিক্ষা লাভ করবেন।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এই বিশাল কর্মমুখী শিক্ষাধারা মাঠপর্যায়ে শতভাগ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে ইতিমধ্যে দেশের ৯০০ জন দক্ষ অধ্যাপক ও আইটি বিশেষজ্ঞকে ‘মাস্টার ট্রেইনার’ হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছে। এই মাস্টার ট্রেইনারদের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে সারা দেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি কলেজের মোট ১২ হাজার সাধারণ শিক্ষককে আইসিটি-ভিত্তিক বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া শুরু হয়েছে আজ থেকেই।

শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কারের পাশাপাশি পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় প্রধানমন্ত্রী এই মঞ্চ থেকে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪০ লাখ শিক্ষার্থীর জন্য একটি করে বাধ্যতামূলক গাছ লাগানোর বিশেষ রাষ্ট্রীয় নির্দেশনা জারি করেন। ‘ওয়ান স্টুডেন্ট, ওয়ান ট্রি’ (One Student, One Tree) নামক এই গ্রিন প্রজেক্টের মাধ্যমে আগামী ৫ বছরের মধ্যে দেশের আনাচে-কানাচে ২ কোটিরও বেশি ফলদ ও বনজ গাছ রোপণ করা সম্ভব হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী।

একই সাথে কলেজের শিক্ষার্থীদের বৈশ্বিক শ্রমবাজারে আরও বেশি প্রতিযোগিতাসক্ষম করতে প্রতিটি কলেজে একটি করে বিশেষ ‘ভাষা ক্লাব’ (Language Club) প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দেওয়া হয়, যেখান থেকে শিক্ষার্থীরা প্রাতিষ্ঠানিকভাবে চীনা, জাপানি, কোরীয়, স্প্যানিশ এবং আরবি ভাষা শেখার বিনামূল্যে সুযোগ পাবেন। ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিল্প-একাডেমি সংযোগ (Industry-Academia Linkage) বর্তমানের ১০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৬০ শতাংশে উন্নীত করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী দেশ গড়ার কাজে যুবসমাজকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

জান্নাত সকালবেলা

মন্তব্য করুন