আব্দুল্লাহ আল মামুন, যশোর: যশোরের মণিরামপুর পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডের নাগরিক সেবা এখন চরম ভোগান্তিতে রূপ নিয়েছে। ঝুকিপূর্ণ ব্রিজ, অকেজো ড্রেনেজ ব্যবস্থা, সোলার লাইট না জ্বলা এবং সুপেয় পানির সংকটে পৌরবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অনাস্থা বিরাজ করছে। সরকারের বিপুল অর্থ বরাদ্দ থাকলেও মণিরামপুর পৌরসভার প্রকৌশলী শাখার উদাসীনতায় সাধারণ মানুষ কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
পৌরসভার নতুন-পুরাতন অধিকাংশ ড্রেনে পানি জমে থাকায় তা এখন মশার অভয়াশ্রমে পরিণত হয়েছে। নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ড্রেনগুলো আবর্জনায় ভরাট হয়ে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে কোভিড-১৯ প্রকল্পের আওতায় শহরের কেন্দ্রীয় মসজিদের সামনে থেকে দুর্গাপুর ওয়ার্ড পর্যন্ত ড্রেনের কাজ এক বছর ধরে ফেলে রাখায় ব্যবসায়ী ও পথচারীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। অনেক স্থানে ড্রেনের ঢাকনা না থাকায় কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে।
পৌর এলাকার মোহনপুর-তাহেরপুর ও মোহনপুর-বিজয়রামপুর ওয়ার্ডের দুটি ব্রিজ অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হলেও কর্তৃপক্ষ কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। এছাড়া ১৪ কোটি টাকার আইইউজিআইপি প্রকল্পের কাজ আংশিক হয়ে মুখ থুবড়ে পড়েছে। প্রভাতী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জিএম মাকসুদুর রহমান জানান, বৃষ্টির দিনে স্কুলের সামনে পানি জমে থাকায় শিক্ষার্থীদের যাতায়াত অসম্ভব হয়ে পড়ে, বারবার জানিয়েও কোনো সমাধান মেলেনি।
কাগজ-কলমে ৬টি গণ-শৌচাগার সচল দেখানো হলেও বাস্তবে একটিও সক্রিয় নেই। কোটি কোটি টাকার প্রকল্পে রাস্তা সংস্কার হলেও চওড়া না হওয়ায় বাজারে যানজট ও ফুটপাত দখল লেগেই থাকে। এছাড়া সরবরাহকৃত পানির গুণগত মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে; আয়রন ও দুর্গন্ধযুক্ত পানি পাওয়ার পাশাপাশি পানির বিলও বাড়ানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন পৌরবাসী।
মণিরামপুর পৌরসভার প্রকৌশলী কর্মকর্তা উত্তম মজুমদার জানান, স্থানীয় রাজনৈতিক প্রভাব ও ঠিকাদারদের অসহযোগিতার কারণে কাজ বুঝে পেতে জটিলতা হচ্ছে। তবে মণিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক মো. সম্রাট হোসেন জানিয়েছেন, জনস্বার্থে চলমান প্রকল্পগুলো দ্রুত শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং ঝুলে থাকা কাজগুলো সম্পন্ন করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
এ.আই.এল/সকালবেলা