নিজস্ব প্রতিবেদক: জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের মামলায় সাবেক চিফ হুইপ ও মাদারীপুর-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য নূর-ই-আলম চৌধুরীর (লিটন চৌধুরী) যাবতীয় মূল আয়কর নথি জব্দের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
বুধবার (৬ মে ২০২৬) দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) এক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মহানগর দায়রা জজ ও সিনিয়র বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মো. সাব্বির ফয়েজ এই সুনির্দিষ্ট নির্দেশ দেন। আদালতের বেঞ্চ সহকারী রিয়াজ হোসেন গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও দুদকের উপ-পরিচালক এ কে এম মুর্তজা আলী সাগর তদন্তের স্বার্থে আসামির ২০২৪-২৫ করবর্ষ পর্যন্ত যাবতীয় মূল আয়কর নথি জব্দের অনুমতি চেয়ে আদালতে একটি লিখিত আবেদন করেন। আবেদনে তিনি উল্লেখ করেন, নুর-ই-আলম চৌধুরী একজন নিয়মিত আয়কর দাতা। তাঁর বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে জ্ঞাত আয় বহির্ভূত বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মামলা চলমান রয়েছে। মামলার সুষ্ঠু তদন্ত ও সত্যতা যাচাইয়ের স্বার্থে তাঁর দাখিলকৃত আয়কর নথিগুলো গভীরভাবে পর্যালোচনা করা অত্যন্ত জরুরি।
উল্লেখ্য, ক্ষমতার অপব্যবহার, দুর্নীতি ও অর্থ পাচারের অভিযোগে গত বছরের ২৫ মার্চ সাবেক চিফ হুইপ নূর-ই-আলম চৌধুরীর বিরুদ্ধে একটি মেগা মামলা দায়ের করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
মামলার এজাহার ও দুদকের অনুসন্ধানী প্রতিবেদন অনুযায়ী, নূর-ই-আলম চৌধুরীর নামে রাজধানীর উত্তরা, পূর্বাচল এবং নিকুঞ্জ এলাকায় আলিশান জমি ও ভবনসহ প্রায় ৪ কোটি ২৯ লাখ টাকার স্থাবর সম্পদের হদিস মিলেছে। এছাড়া তাঁর নামে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে আরও ৪২ কোটি ৮১ লাখ টাকার অস্থাবর সম্পদসহ মোট ৫৭ কোটি ৪৯ লাখ টাকার জ্ঞাত আয় বহির্ভূত অবৈধ সম্পদের তথ্য প্রমাণ পেয়েছে দুদক।
সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য হলো, নূর-ই-আলম চৌধুরীর ব্যক্তিগত ও তাঁর মালিকানাধীন ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের নামে পরিচালিত দেশের বিভিন্ন ব্যাংকের ৮টি হিসাব নম্বরে (Bank Accounts) ২৩২ কোটি ১১ লাখ ৮০ হাজার ২৪font টাকার অস্বাভাবিক ও সন্দেহজনক লেনদেনের প্রমাণ মিলেছে। দুদক কর্মকর্তাদের প্রবল সন্দেহ, এই বিশাল অঙ্কের টাকা মানিলন্ডারিং বা অবৈধ অর্থ পাচারের সাথে সরাসরি সংশ্লিষ্ট। এই অবৈধ সম্পদের চুলচেরা বিশ্লেষণের অংশ হিসেবেই এবার তাঁর আয়কর ফাইলগুলো নিজেদের হেফাজতে নিচ্ছে দুদক।