সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে জব্দ হওয়া সাড়ে ১৭ কেজি সোনা উচ্চ আদালতে এসে অবিশ্বাস্যভাবে মাত্র দেড় কেজিতে পরিণত হওয়ার চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ পেয়েছে। চ্যানেল টুয়েন্টিফোরের একটি অনুসন্ধানে এই জালিয়াতির বিষয়টি উঠে এসেছে।
২০২৫ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি শারজাহ থেকে আসা দুই যাত্রীর কাছ থেকে ১২০টি সোনার বার ও ৪টি সোনার পেস্টের চাকা জব্দ করে জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই) ও শুল্ক গোয়েন্দা কর্মকর্তারা। জব্দকৃত ১৭ কেজি ৫০০ গ্রাম সোনার তৎকালীন বাজার মূল্য ছিল প্রায় ২১ কোটি টাকা।
অনুসন্ধানে দেখা যায়, গত বছরের ৫ নভেম্বর আসামিরা হাইকোর্টে জামিন নিতে আসলে নথিপত্রে সোনার পরিমাণ সুকৌশলে পরিবর্তন করা হয়। নথিতে ১৭ কেজি ৫০০ গ্রামের জায়গায় ‘১৭’ থেকে ‘৭’ সংখ্যাটি সরিয়ে মাত্র ১ কেজি ৫০০ গ্রাম দেখানো হয়।
স্বর্ণের পরিমাণ কম দেখে হাইকোর্ট আসামিদের জামিন মঞ্জুর করেন। তবে জামিনের পাঁচ দিন পর রাষ্ট্রপক্ষ নথি তল্লাশি করলে এই জালিয়াতি ধরা পড়ে। ততক্ষণে আসামিরা কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে যান। জালিয়াতির বিষয়টি জানাজানি হলে হাইকোর্ট তাৎক্ষণিকভাবে জামিন স্থগিত করেন এবং এই ঘটনার সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে মামলার নির্দেশ দেন।
অভিযুক্তদের আইনজীবী সাদিয়া ইয়াসমিন অবশ্য জালিয়াতির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, মামলা গ্রহণের সময় নথিপত্রে সোনার পরিমাণ দেড় কেজিই উল্লেখ ছিল।
উচ্চ আদালতের নির্দেশে বর্তমানে এই নজিরবিহীন জালিয়াতির পেছনের কুশীলবদের খুঁজে বের করতে তদন্ত চলছে।
জান্নাত/সকালবেলা