নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশে আলুর পর্যাপ্ত উৎপাদন হওয়া সত্ত্বেও কৃষকরা ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। এই সংকট উত্তরণে খাদ্য হিসেবে আলুর ব্যবহার কীভাবে বাড়ানো যায়, সেদিকে বিশেষ নজর রাখতে জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। সোমবার (৪ মে ২০২৬) সকালে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ডিসি সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনের প্রথম অধিবেশন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব তথ্য জানান।
এ বছর আলুর ফলন ভালো হলেও বাজারে দাম কম থাকায় কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন—জেলা প্রশাসকদের এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, "কৃষকদের দীর্ঘমেয়াদি সহায়তার জন্য আমরা কৃষি কার্ড প্রদান করেছি। এই কার্ডের মাধ্যমে কৃষকরা জানতে পারবেন কোন মৌসুমে কোন ফসল কতটুকু ফলালে বাজারে ভারসাম্য থাকবে এবং তারা সঠিক দাম পাবেন।" মূলত অতিরিক্ত উৎপাদন এড়িয়ে চাহিদা অনুযায়ী চাষাবাদ নিশ্চিত করতেই এই প্রযুক্তিগত উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সম্প্রতি বন্যায় দেশের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহায়তার বিষয়েও কথা বলেন মন্ত্রী। তিনি জানান, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ তহবিল এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকে অর্থ সহায়তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই সহায়তা কৃষকদের হাতে পৌঁছে দেওয়া হবে।
মন্ত্রী বলেন, স্থানীয় পর্যায়ে কৃষিপণ্য বিপণন ও সংরক্ষণে জেলা প্রশাসকদের সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে। আলুর বহুমুখী ব্যবহার বাড়াতে জনসচেতনতা তৈরির পাশাপাশি সরকারি বিভিন্ন খাদ্য কর্মসূচিতে আলুর অন্তর্ভুক্তি বাড়ানো যায় কি না, তা খতিয়ে দেখতে বলা হয়েছে।
সরকার কৃষিকে আধুনিকায়ন এবং কৃষকের স্বার্থ রক্ষায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে উল্লেখ করে মন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন যে, সঠিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে আলুর বাজারের এই অস্থিরতা দ্রুতই কেটে যাবে।