লাইফস্টাইল ডেস্ক: আধুনিক ডায়েটে ‘সুপারফুড’ হিসেবে পরিচিত ডিমের কোনো বিকল্প নেই। উচ্চমানের আমিষ, ভিটামিন ও খনিজের পাওয়ার হাউস বলা হয় ডিমকে। তবে আমাদের মনে প্রায়ই প্রশ্ন জাগে—হাঁস, মুরগি নাকি কোয়েল, কোন ডিমটি স্বাস্থ্যের জন্য সবচেয়ে ভালো? আজ সোমবার (৪ মে ২০২৬) এক প্রতিবেদনে বিভিন্ন ধরনের ডিমের পুষ্টিগত পার্থক্য ও উপকারিতা তুলে ধরা হলো।
দেশি ও ফার্মের মুরগির ডিমের পুষ্টিগুণে খুব বড় কোনো তফাত নেই। তবে ওজনের কারণে পুষ্টির পরিমাণে কিছুটা পরিবর্তন আসে।
দেশি মুরগি: প্রাকৃতিক খাবার ও পোকা-মাকড় খেয়ে বড় হয়। এই ডিমের গড় ওজন প্রায় ৩৮ গ্রাম।
ফার্মের মুরগি: উন্নত ও পুষ্টিকর খাবার (ভুট্টা, শুঁটকি গুঁড়ো, ভিটামিন ইত্যাদি) খাওয়ার কারণে এই ডিমের ওজন প্রায় ৬০ গ্রাম পর্যন্ত হয়। আয়তনে বড় হওয়ায় ফার্মের ডিমে প্রোটিন, ফ্যাট ও খনিজের পরিমাণও দেশি ডিমের চেয়ে কিছুটা বেশি থাকে। ফ্যাট কমাতে মুরগির ডিম হাঁসের ডিমের চেয়ে বেশি কার্যকর।
মুরগির ডিমের তুলনায় হাঁসের ডিম পুষ্টির দিক থেকে কিছুটা এগিয়ে। ১০০ গ্রাম হাঁসের ডিমে শক্তি পাওয়া যায় ১৮১ কিলো-ক্যালরি। এতে প্রোটিন থাকে ১৩.৫ গ্রাম এবং ফ্যাট ১৩.৭ গ্রাম। এছাড়া ক্যালসিয়াম (৭০ মি.গ্রা.) ও ভিটামিন-এ (২৬৯ মাইক্রোগ্রাম) হাঁসের ডিমে বেশ ভালো পরিমাণে থাকে।
সব ধরনের ডিমের মধ্যে পুষ্টির ঘনত্বের বিচারে কোয়েলের ডিমকে সেরা মানা হয়।
ভিটামিন বি-২: এতে প্রচুর পরিমাণে রিবোফ্লাভিন বা ভিটামিন বি-২ রয়েছে, যা লিভার, ত্বক, চুল ও চোখের সুস্থতায় কাজ করে।
ক্যান্সার প্রতিরোধ: এই ডিমে থাকা 'সেলেনিয়াম' খনিজ প্রোস্টেট ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায় এবং দেহকোষের ক্ষয় রোধ করে।
দৃষ্টিশক্তি: এতে থাকা উচ্চমাত্রার ভিটামিন-এ চোখের দৃষ্টিশক্তি বাড়াতে সহায়ক।
বয়সভেদে সতর্কতা: বিশেষজ্ঞরা সাধারণত ৪০ বছরের পর নিয়মিত মুরগির ডিম খেতে নিষেধ করেন (কোলেস্টেরলের কারণে), তবে কোয়েলের ডিম শরীরের বিপাকীয় প্রক্রিয়ায় বেশ উপকারী।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, একজন সুস্থ মানুষ দিনে একটি ডিম অনায়াসেই খেতে পারেন। তবে যাদের হৃদরোগ বা উচ্চ কোলেস্টেরলের সমস্যা রয়েছে, তাদের চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
জান্নাত/সকালবেলা