শিশু-কিশোরদের ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিচ্ছে সোশ্যাল মিডিয়া

জান্নাতুল ফেরদৌস
প্রকাশ: রবিবার, ০৩ মে ২০২৬, ১২:৪০ অপরাহ্ণ
শিশু-কিশোরদের ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিচ্ছে সোশ্যাল মিডিয়া
বর্তমান সময়ে শিশুদের স্বাভাবিক বিকাশে সবচেয়ে বড় অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে সোশ্যাল মিডিয়া। বইয়ের বদলে হাতে স্মার্ট ডিভাইস তুলে দেওয়ায় শিশুরা আশক্ত হয়ে পড়ছে ডিজিটাল স্ক্রিনে। এটি একদিকে যেমন তাদের মানসিক ও শারীরিক ক্ষতি করছে, অন্যদিকে কিশোর বয়সে অপরাধপ্রবণতা ও কিশোর গ্যাং কালচারকে উসকে দিচ্ছে।পুলিশ ও বিশেষজ্ঞদের তথ্যমতে, বর্তমানে কিশোর গ্যাংয়ের আধিপত্য বিস্তার ও হামলার পেছনে প্রধান ভূমিকা রাখছে তথ্য-প্রযুক্তি। ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ বা ইমুর গ্রুপ ব্যবহার করে মুহূর্তেই বিশাল দলবদ্ধ হয়ে তারা হামলা বা খুনের মতো ঘটনা ঘটাচ্ছে। উন্মুক্ত ও নিয়ন্ত্রণহীন এই প্ল্যাটফর্মগুলোতে শিশুরা অনলাইন বুলিং, প্রতারণা ও অশ্লীল কনটেন্টের শিকার হচ্ছে। অতিরিক্ত ‘স্ক্রিন টাইম’ তাদের পড়াশোনা, ঘুম এবং সামাজিক যোগাযোগ কমিয়ে দিচ্ছে। সোশ্যাল মিডিয়ার ক্ষতিকর প্রভাব থেকে বাঁচাতে বিশ্বের অনেক দেশ ইতোমধ্যে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে:
  • অস্ট্রেলিয়া: ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া নিষিদ্ধ করেছে।

  • যুক্তরাজ্য: একই ধরনের নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিষয়টি বিবেচনা করছে।

  • চীন: ১৪ বছরের কম বয়সীদের জন্য দৈনিক স্ক্রিনটাইম ৪০ মিনিটে সীমাবদ্ধ করেছে।

  • ফ্রান্স ও ডেনমার্ক: ১৫ বছরের নিচে ব্যবহারে বিধিনিষেধ দিয়েছে।

  • যুক্তরাষ্ট্র: শিশুদের মানসিক ক্ষতির অভিযোগে মেটা, অ্যালফাবেট ও বাইটড্যান্সের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।বিশ্বজুড়ে কড়াকড়ি বাড়লেও বাংলাদেশে এ বিষয়ে উদাসীনতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। গবেষণায় দেখা গেছে, সোশ্যাল মিডিয়ার কারণে দেশে বাল্যবিবাহ, যৌন নিপীড়ন এবং কিশোরীদের ব্ল্যাকমেইল করার ঘটনা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। গত এক বছরে সোশ্যাল মিডিয়ার প্রভাবে আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে অন্তত ২০৯টি।

    বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিশুদের এই আসক্তির দায় শুধু অভিভাবকদের ওপর চাপালে চলবে না; ট্রিলিয়ন ডলারের অ্যালগরিদম ব্যবহারকারী সোশ্যাল মিডিয়া কোম্পানিগুলোকেও এর দায় নিতে হবে। শিশুদের সুন্দর ভবিষ্যৎ রক্ষায় এখনই সোশ্যাল মিডিয়াকে শৃঙ্খলার মধ্যে আনা সরকারের অগ্রাধিকার হওয়া উচিত।

    জান্নাত/সকালবেলা

মন্তব্য করুন