অনলাইন ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, “অতীতের মতো আবারও দেশবিরোধী ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে। গত ১২ তারিখ সফল হতে না পেরে তারা নতুন করে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। তাদের মূল লক্ষ্য হচ্ছে বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিকভাবে বন্ধুহীন করা।”
শুক্রবার (১ মে) মহান মে দিবস উপলক্ষে রাজধানীর নয়াপল্টনে জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল আয়োজিত এক বিশাল সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
জুলাই আন্দোলনে শহীদ ৭২ জন শ্রমিকের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিগত স্বৈরাচারী শাসনামলে দেশের শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ প্রতিটি খাত ধ্বংস করে শ্রমিকদের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলা হয়েছে। ২০২৪ সালে জনগণ সেই স্বৈরাচারকে বিদায় দিয়েছে, এখন দেশ গড়ার সময়। তিনি ঘোষণা দেন, বন্ধ হয়ে যাওয়া কলকারখানাগুলো পর্যায়ক্রমে পুনরায় চালু করতে ইতিমধ্যেই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে সরকার কাজ করে যাচ্ছে।
তারেক রহমান বলেন, “শ্রমিক ও কৃষক ভালো থাকলে দেশ ভালো থাকবে।” তিনি আরও জানান, হকারদের পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে যাতে তারা যানজট সৃষ্টি না করে শান্তিপূর্ণভাবে ব্যবসা করতে পারেন। সরকারের ৩১ দফার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “কৃষি ঋণ মওকুফ ও কৃষক কার্ড দেওয়ার মাধ্যমে আমরা প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন শুরু করেছি। এছাড়া জিয়াউর রহমানের আদর্শে খাল খনন ও প্রতিভাবানদের তুলে আনার কাজও শুরু হয়েছে।”
ষড়যন্ত্রকারীদের সতর্ক করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্ব দরবার আজ দেখছে যে এই সরকার জনগণের ভোটে নির্বাচিত। আন্তর্জাতিক মহল এই গণতান্ত্রিক সরকারের সঙ্গে কাজ করতে এবং বিনিয়োগ করতে আগ্রহী। তিনি দেশবাসীকে সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “আমাদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। চোখ-কান খোলা রেখে ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করতে হবে।” নিজেকে এবং তাঁর মন্ত্রীদের ‘দেশের সেবক ও শ্রমিক’ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি সবাইকে দেশ গড়ার কাজে আত্মনিয়োগ করার আহ্বান জানান।
শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনের সভাপতিত্বে সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, ড. আব্দুল মঈন খান, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী প্রমুখ।
এ.আই.এল/সকালবেলা