/ পরিবেশ
জান্নাতুল ফেরদৌস
প্রকাশ:
বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ১১:৩৬ পূর্বাহ্ণ

মায়াবতী পারুল ফুল

জান্নাতুল ফেরদৌস
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ১১:৩৬ পূর্বাহ্ণ
মায়াবতী পারুল ফুল

প্রকৃতি ও পরিবেশ: বাংলার লোকগাঁথা আর সাহিত্যে যার অবাধ বিচরণ, সেই মায়াবতী ‘পারুল’ ফুল আজও এ অঞ্চলের প্রকৃতিতে এক অমূল্য সম্পদ। চতুর্থ বা পঞ্চম শতকের মহাকবি কালিদাসের সাহিত্য থেকে শুরু করে রবীন্দ্রনাথ ও নজরুলের গানেও পারুলের মধুর নাম পাওয়া যায়। সংস্কৃত সাহিত্যে একে ‘পাটল’ বলা হলেও আমাদের প্রাকৃত ‘পারুল’ নামটিই বেশি শ্রুতিমধুর। নিদাঘ বা গ্রীষ্মের তপ্ত দুপুরে পারুলের ঘ্রাণমাখা বাতাস শরীর ও মনে প্রশান্তি আনে।

পারুলের সন্ধানে: এক সময় দেশে পারুল প্রায় ‘অদেখা’ হয়ে গিয়েছিল। প্রয়াত ওয়াহিদুল হক ও নিসর্গী দ্বিজেন শর্মা পারুলের অনুসন্ধান শুরু করেছিলেন। সিলেটের পাথারিয়া জঙ্গল থেকে সংগৃহীত গাছ পরে ‘ধারমারা’ বা ‘কাউয়াতুতি’ হিসেবে শনাক্ত হওয়ায় পারুল খুঁজে পাওয়ার আশা ক্ষীণ হয়ে এসেছিল। অবশেষে ২০১৬ সালে গাজীপুরের জয়দেবপুরের টাঁকশাল এলাকায় ফুটে থাকা ফুলের ছবি দেখে নিসর্গবিদগণ একে ‘পারুল’ হিসেবে নিশ্চিত করেন।

বর্তমান অবস্থা: গাজীপুরের জয়দেবপুরে সিকিউরিটি প্রিন্টিং প্রেস করপোরেশন স্কুলের বিজ্ঞান ভবনের পাশে এখন চারটি পারুলগাছ টিকে আছে। সীমানা প্রাচীর নির্মাণের কারণে সম্প্রতি একটি গাছ কেটে ফেলা হয়েছে, যা প্রকৃতিপ্রেমীদের মনে শঙ্কা জাগিয়েছে। তবে আশার কথা হলো, আইইউসিএন-বাংলাদেশ-এর ২০২৪ সালের মূল্যায়ন অনুযায়ী পারুল এখনো ‘ন্যূনতম বিপদগ্রস্ত’ তালিকায় আছে, অর্থাৎ দেশের কোথাও না কোথাও এর অস্তিত্ব এখনো আছে।

বৈশিষ্ট্য ও গুরুত্ব:

  • প্রকৃতি: গ্রীষ্মকালীন সুদর্শন তরু।

  • অন্য নাম: পাটল বা পুলিলা (সংস্কৃত), পলল (সিংহলি)।

  • বিচরণ: গাজীপুর ও মধুপুরের বনে এর দেখা মেলে।

  • প্রয়োজনীয়তা: দুর্লভ এই বৃক্ষটি রক্ষায় চারা তৈরি ও দেশব্যাপী এর বিস্তার ঘটানো প্রয়োজন।

মন্তব্য করুন