ম্যাচ শেষে স্টেডিয়াম পরিষ্কার করে প্রশংসিত জাপানি দর্শকরা
আজ সোমবার (১৫ জুন) বিকেলে অনলাইন সংস্করণে প্রকাশিত ‘স্পোর্টিং লাইফস্টাইল, গ্যালারি উন্মাদনা ও ক্রীড়া খতিয়ান’ এবং ‘ফ্যান কালচার ট্র্যাকিং, গ্লোবাল স্পোর্টস বিহেভিয়ার ও সোশ্যাল ইমপ্যাক্ট মনিটরিং উইং’-এর বিশেষ যৌথ বুলেটিংয়ে জাপানি দর্শকদের এই ইতিবাচক মেথডলজি বিস্তারিত তুলে ধরা হলো।
বিশ্বকাপের অফিশিয়াল ম্যাচ শিডিউল খতিয়ান অনুযায়ী, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ডালাসে অনুষ্ঠিত গ্রুপ পর্বের এক হাইভোল্টেজ ম্যাচে ইউরোপের শক্তিশালী দল নেদারল্যান্ডসের মুখোমুখি হয়েছিল সামুরাই ব্লু বা জাপান। মাঠের তীব্র লড়াই শেষে ম্যাচটি ২-২ গোলে ড্র হয়। তবে ম্যাচ রেফারি শেষ বাঁশি বাজানোর পর স্টেডিয়ামের চিত্র সম্পূর্ণ বদলে যায়।
গ্যালারির অফিশিয়াল ট্র্যাকিং মেথড অনুযায়ী, ডাচ ও অন্যান্য সাধারণ দর্শকরা যখন ম্যাচ শেষে মাঠ থেকে বেরিয়ে যাচ্ছিলেন, তখন জাপানি সমর্থকরা গ্যালারির সারিগুলোর মাঝে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা প্লাস্টিকের পানির বোতল, চিপস ও খাবারের মোড়কগুলো কুড়াতে শুরু করেন। তারা প্রত্যেকে বাসা থেকে আনা বড় বড় আবর্জনার ব্যাগে সেই ময়লাগুলো সংগ্রহ করেন এবং স্টেডিয়ামের নির্ধারিত ডাস্টবিনে ফেলে পুরো এলাকা একদম পরিচ্ছন্ন কন্ডিশনে ফিরিয়ে আনেন। সম্পূর্ণ গ্যালারি ঝকঝকে করার পরই কেবল তারা ডালাসের স্টেডিয়াম ত্যাগ করার আইনি নিয়মে যান।
ক্রীড়া বিশ্লেষকদের মতে, জাপানিদের এই অভূতপূর্ব আচরণ কিন্তু বিশ্বমঞ্চে একদম নতুন কোনো ঘটনা নয়। এর আগে ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপ চলাকালীনও জাপানি দর্শকদের এমন জাদুকরী ও সুশৃঙ্খল মেথড দেখে মুগ্ধ হয়েছিল পুরো ফুটবল বিশ্ব। সে সময় শুধু নিজেদের দেশের ম্যাচেই নয়, বরং নিরপেক্ষ দর্শক হিসেবে অন্য দুটি দেশের খেলা দেখতে গিয়েও তারা ম্যাচ শেষে স্টেডিয়াম পরিষ্কার করার অনন্য গেমপ্ল্যান অ্যাপ্লাই করেছিলেন।
জাপানের সমাজতাত্ত্বিক খতিয়ান ঘেঁটে দেখা যায়, এই পরিচ্ছন্নতার অভ্যাস মূলত জাপানি ক্রীড়া সংস্কৃতির এবং তাদের প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থার এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। দেশটির ঘরোয়া ফুটবল লিগ ‘জে-লিগ’ (J-League)-এর প্রতিটি ম্যাচ শেষেও দর্শকরা এভাবে স্টেডিয়াম পরিষ্কার করে থাকেন। তাদের গভীর বিশ্বাস, খেলা উপভোগ করার পাশাপাশি গ্যালারির পরিবেশ সুন্দর ও জীবাণুমুক্ত রাখা প্রতিটি নাগরিকের নৈতিক দায়িত্ব। ডালাসের গ্যালারি পরিষ্কারের এই ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীরা বলছেন, ফুটবল যদি শুধু বিনোদন হয়, তবে জাপান আন্তর্জাতিক সমাজকে প্রতিদিন নতুন করে শৃঙ্খলা ও মানবিকতার খতিয়ান শেখাচ্ছে।
জান্নাত সকালবেলা
|