ভারতের মাটিতে অ্যাশেজ টেস্ট আয়োজনের আগ্রহ জানাল অস্ট্রেলিয়া
ক্রীড়া ডেস্ক: চলতি বছরের শেষ দিকে মাঠে গড়াবে অস্ট্রেলিয়ার জনপ্রিয় টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট 'বিগ ব্যাশ লিগ' (বিবিএল)-এর ১৬তম আসর। তবে টুর্নামেন্ট শুরু হওয়ার আগেই ক্রিকেটপ্রেমীদের এক বিশাল চমক দিয়েছে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া (সিএ)। ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বিগ ব্যাশের উদ্বোধনী ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে অস্ট্রেলিয়ার বাইরে ভারতের মাটিতে—চেন্নাইয়ের ঐতিহাসিক এম এ চিদাম্বরাম স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হবে মেলবোর্ন রেনেগেডস ও পার্থ স্কর্চার্স।
বিগ ব্যাশ নিয়ে তৈরি হওয়া সেই উত্তেজনার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার ক্রিকেট বিশ্বে আরও এক বড় চমক দেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। টেস্ট ক্রিকেট ইতিহাসের সবচেয়ে প্রাচীন ও মর্যাদাপূর্ণ লড়াই ‘অ্যাশেজ’ সিরিজও এবার ভারতের মাটিতে আয়োজন করার ইচ্ছে প্রকাশ করেছে তারা।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসির জনপ্রিয় 'স্টাম্পড' পডকাস্টে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার (সিএ) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা টড গ্রিনবার্গ এই সম্ভাব্য পরিকল্পনার কথাটি প্রকাশ্যে আনেন। তিনি বলেন, "ভারতে ঐতিহ্যবাহী অ্যাশেজ সিরিজের এক বা দুটি টেস্ট ম্যাচ আয়োজন করা যায় কি না, তা নিয়ে আমরা গভীরভাবে ভাবছি। বোর্ড ডিরেক্টরদের চূড়ান্ত অনুমোদন পেলে এ নিয়ে আনুষ্ঠানিক পরিকল্পনা সাজানো হবে। যদিও এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু চূড়ান্ত হয়নি, তবে ভবিষ্যতের জন্য সব সম্ভাবনার দ্বার আমরা খোলা রাখছি।"
বিশ্বজুড়ে ফ্র্যাঞ্চাইজি টি-টোয়েন্টির চরম রমরমা বাজারে টেস্ট ক্রিকেটের জনপ্রিয়তা ও বিশ্বব্যাপী প্রসার বৃদ্ধির লক্ষ্যেই মূলত এমন যুগান্তকারী চিন্তা করা হচ্ছে বলে জানান গ্রিনবার্গ। তিনি আরও উল্লেখ করেন, "ইংল্যান্ড, ভারত ও আমাদের মধ্যে আয়োজিত টেস্ট ক্রিকেট এখনও অত্যন্ত শক্তিশালী অবস্থান ধরে রেখেছে। তাই আমাদের মূল লক্ষ্য হলো টেস্ট ক্রিকেটকে বিশ্বের বুকে আরও বিস্তৃত ও শক্তিশালী করে তোলা।"
বিশ্লেষকদের মতে, ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যকার ঐতিহ্যগত প্রতিদ্বন্দ্বিতার পাশাপাশি ভারতের বিশাল দর্শকপ্রিয়তা ও ক্রিকেট বাজারকে কাজে লাগানোর অর্থনৈতিক সুযোগকেও এখানে বড় লক্ষ্য হিসেবে দেখছে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া। যদিও ব্যস্ত আন্তর্জাতিক সূচির জটিলতা ও ভারতের কন্ডিশন সামলে এমন ঐতিহাসিক আয়োজনের বিষয়ে ইসিবি (ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলসে ক্রিকেট বোর্ড) ও বিসিসিআই-এর সম্মতি প্রয়োজন হবে, তবুও অস্ট্রেলিয়ার এই নতুন দৃষ্টিভঙ্গি ক্রিকেট অঙ্গনে ব্যাপক ইতিবাচক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
|