সাফ হ্যাটট্রিক মিশনে ভারতের পথে বাংলাদেশ নারী দল
স্পোর্টস ডেস্ক : দক্ষিণ এশিয়ার মেয়েদের ফুটবলের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ আসর ‘সাফ উইমেনস চ্যাম্পিয়নশিপ’-এ টানা তৃতীয়বারের মতো ট্রফি জয়ের এক ঐতিহাসিক ও অনন্য মিশন নিয়ে ভারতের পথে রওনা হয়েছেন বাংলাদেশের মেয়েরা। আগামী সোমবার ভারতের গোয়ায় পর্দা উঠছে সাফের এই জমজমাট আসরের। ২০২২ এবং ২০২৪ সালের ব্যাক-টু-ব্যাক চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ এবার মাঠে নামবে শিরোপার হ্যাটট্রিক করার অবিচল লক্ষ্য নিয়ে।
মেগা এই টুর্নামেন্টকে সামনে রেখে থাইল্যান্ডের বিশ্বমানের ‘এলপাইন ট্রেনিং সেন্টারে’ নিজেদের কন্ডিশনিং ক্যাম্প সফলভাবে শেষ করেছে কোচ পিটার জেমস বাটলারের শিষ্যরা। দুই সপ্তাহের কঠোর ও নিবিড় প্রস্তুতি ক্যাম্প শেষে আজ বৃহস্পতিবার (২১ মে) সকালে ব্যাংকক থেকে সরাসরি বিমানযোগে গোয়ার উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন ঋতুপর্ণা-রূপনারা।
গোয়ার উদ্দেশে বিমান ধরার আগে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) পাঠানো এক ভিডিও বার্তায় দলের অন্যতম সেরা উইঙ্গার ঋতুপর্ণা চাকমা বলেন, ‘আমরা এখানে গত দুই সপ্তাহ থাইল্যান্ডের তীব্র গরম ও কড়া রোদের মধ্যে অত্যন্ত কঠোর অনুশীলন করেছি। দলের প্রতিটি সদস্য এখন শারীরিক ও মানসিকভাবে পুরোপুরি প্রস্তুত। সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে আমরা ট্রফি ধরে রাখতে নিজেদের সর্বোচ্চ সেরাটা মাঠে ঢেলে দেওয়ার চেষ্টা করব। আমাদের মূল লক্ষ্যই হচ্ছে ট্রফি নিজেদের কাছে রাখা। এখানে যে দুটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলেছি, সেগুলো মূল টুর্নামেন্টের মূল ম্যাচগুলোতে আমাদের কৌশল সাজাতে অনেক সাহায্য করবে।’
দেশবাসীর সমর্থন ও প্রাণভরে দোয়া চেয়ে এশিয়ার সেরা এই উইঙ্গার বলেন, ‘দেশবাসীর কাছে আমার একটাই আকুল চাওয়া, আপনারা যেভাবে সবসময় আমাদের সমর্থন দিয়ে পাশে থেকেছেন, আগামী দিনেও যেন একইভাবে আমাদের পাশে থাকেন। আপনাদের এই গভীর ভালোবাসা ও নিঃশর্ত সমর্থন আমাদের মাঠে বাড়তি পারফর্ম করার অনুপ্রেরণা যোগায়। আমরা আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা করব, যেন দেশবাসীকে আরেকটি ট্রফি উপহার দিয়ে মুখে হাসি ফোটাতে পারি।’
আগামী ২৮ মে মালদ্বীপের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে সাফের গ্রুপ পর্বের শিরোপা ধরে রাখার মিশন শুরু করবে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ। এরপর ৩১ মে গ্রুপ পর্বের সবচেয়ে হাইভোল্টেজ ও বহুল প্রতীক্ষিত ম্যাচে স্বাগতিক ভারতের মুখোমুখি হবে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।
মূল আসরে মাঠে নামার আগে ব্যাংককের এই বিশেষ ক্যাম্প থেকে দল ফুটবলীয় অনেক সূক্ষ্ম জিনিস শিখতে পেরেছে বলে মনে করেন দলের ইংলিশ প্রধান কোচ পিটার জেমস বাটলার। বাফুফেকে ধন্যবাদ জানিয়ে বাটলার বলেন, ‘বাফুফের কর্মকর্তাদের প্রতি আমি আন্তরিকভাবে অত্যন্ত কৃতজ্ঞ। তাদের অক্লান্ত ও আন্তরিক প্রচেষ্টাতেই আমরা থাইল্যান্ডে এই চমৎকার প্রস্তুতি ক্যাম্প করার সুযোগ পেয়েছি। এই ক্যাম্পটি দলের জন্য ছিল এক ঝলক তাজা বাতাসের মতো সতেজ। এখানে যেমন অনেক ইতিবাচক দিক পাওয়া গেছে, তেমনি আমাদের কিছু সীমাবদ্ধতাও চোখে পড়েছে। তবে ফুটবলীয় বাস্তবতা হলো, ভালো দিকের চেয়ে নিজেদের ভুল বা খারাপ দিকগুলো থেকেই সংশোধনের ও শেখার সুযোগ বেশি থাকে। সব মিলিয়ে আমাদের সাফ মিশন শুরুর আগের ক্যাম্পটি দারুণ হয়েছে।’
জান্নাত সকালাবেলা