‘জার্মানির জীবন কঠিন করে তুলব’

প্রকাশ: রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬, ০৮:১০ অপরাহ্ণ
‘জার্মানির জীবন কঠিন করে তুলব’
‘জার্মানির জীবন কঠিন করে তুলব’
কাগজে-কলমে দুই দেশের শক্তির ব্যবধান আকাশ-পাতাল। একপাশে ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সফল দল, চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানি; অন্যপাশে এই প্রথম বিশ্বমঞ্চে পা রাখা ক্যারিবীয় দ্বীপরাষ্ট্র কুরাসাও।
তবে মাঠের লড়াই শুরুর আগে মহাশক্তিধর জার্মানিকে একচুলও ছাড় দিতে নারাজ কুরাসাও। নিজেদের ঐতিহাসিক বিশ্বকাপ অভিষেকের আগে ডিক অ্যাডভোকেটের দল স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, জার্মানির জন্য ম্যাচটি মোটেও সহজ হতে দেবে না তারা।

চলতি ২০২৬ বিশ্বকাপে কুরাসাও একটি অনন্য নজির গড়ে মাঠে নামছে। জনসংখ্যার দিক থেকে বিশ্বকাপের ইতিহাসে অংশ নেওয়া সবচেয়ে ছোট দেশ এখন কুরাসাও।

মাত্র ১ লাখ ৬০ হাজার জনসংখ্যার এবং ৪৪৪ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এই ছোট্ট দেশটি আজ রোববার বাংলাদেশ সময় রাত ১১টায় হিউস্টনে মুখোমুখি হচ্ছে ফুটবল পরাশক্তি জার্মানির।

ম্যাচের ভেন্যু হিউস্টনে এক সংবাদ সম্মেলনে কুরাসাওয়ের ডাচ কোচ ডিক অ্যাডভোকেট অবশ্য প্রতিপক্ষের নাম দেখে ভড়কে যাওয়ার পাত্র নন।

এই ম্যাচের মাধ্যমে ৭৮ বছর ২৬০ দিন বয়সী অ্যাডভোকেট বিশ্বকাপের ইতিহাসের সবচেয়ে বয়োজ্যেষ্ঠ কোচ হিসেবে রেকর্ড গড়তে যাচ্ছেন। নিজের অভিজ্ঞতা থেকে তিনি বলেন, ‘নেদারল্যান্ডসে মাঝেমধ্যেই খুব ছোট দলগুলো বড় দলগুলোকে হারিয়ে দেয়। এমন ঘটনা প্রায়ই ঘটে। জার্মানির তুলনায় আমরা খুবই ছোট একটি দেশ হতে পারি, কিন্তু আমরা মাঠে ওদের জীবন কঠিন করে তুলব।’

কোচ অ্যাডভোকেটের এই আত্মবিশ্বাসের পেছনে রয়েছে কুরাসাওয়ের দুর্দান্ত বাছাইপর্বের সফর। পুরো বাছাইপর্বে এক ম্যাচেও না হেরে অপরাজিত থেকে বিশ্বকাপের টিকিট কেটেছে এই ক্যারিবীয় দলটি। আর এই অপরাজেয় যাত্রাই তাদের বিশ্বাস জোগাচ্ছে যে, যেকোনো ঐতিহ্যবাহী পরাশক্তির সঙ্গে তারা সমানে সমানে লড়াই করতে পারে।

দলের অধিনায়ক লিয়ান্দ্রো বাকুনাও কোচের সুরেই কথা বলেছেন। তিনি মনে করিয়ে দেন যে, এই সাফল্য হঠাৎ করে আসেনি, বরং বছরের পর বছর ধরে চলা একটি প্রজেক্টের ফসল। বাকুনা বলেন, ‘আমরা ভাগ্যক্রমে বিশ্বকাপে আসিনি। পুরো বাছাইপর্বে আমরা অপরাজিত ছিলাম। আমার অভিজ্ঞতা বলে, যখন আপনি আন্ডারডগ (দুর্বল দল) হিসেবে খেলবেন, তখন যেকোনো কিছুই ঘটে যেতে পারে। আমার বিশ্বাস, আমরা জার্মানিকে বড় সমস্যায় ফেলতে পারব।’

নেদারল্যান্ডসে জন্ম নেওয়া এবং গত এক দশক ধরে কুরাসাওয়ের রক্ষণভাগ সামলানো এই মিডফিল্ডার দলের খেলোয়াড়দের মানসিক শক্তির প্রশংসা করে আরও বলেন, ‘এই যাত্রায় আমরা অনেক খেলোয়াড়কে হারিয়েছি, কিন্তু বিশ্বাস হারাইনি। আমাদের স্বপ্ন ছিল ফুটবলের সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছানো। আমরা বিশ্বকে দেখাতে চাই যে, আমরা আকারে যত ছোটই হই না কেন, আমাদের হৃদয়টা অনেক বড়। সততা আর সাহস থাকলে যে অনেক দূর যাওয়া যায়, সেটাই আমরা প্রমাণ করতে চাই।’









মন্তব্য করুন