নোয়াখালীতে নারীকে পেটানো যুবদল নেতা বহিষ্কৃত

প্রকাশ: শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬, ০৮:৩৪ অপরাহ্ণ
নোয়াখালীতে নারীকে পেটানো যুবদল নেতা বহিষ্কৃত

মো. ইয়াছিন রুবেল, নোয়াখালী প্রতিনিধি: নোয়াখালীর সুবর্ণচরে এক গৃহবধূকে প্রকাশ্যে পাইপ দিয়ে বেধড়ক মারধরের ঘটনায় অভিযুক্ত যুবদল নেতা মো. সফিকুল ইসলাম ওরফে সফিককে দল থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করেছে উপজেলা যুবদল। নির্যাতনের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ার পর দেশজুড়ে ব্যাপক সমালোচনার মুখে কয়েক ঘণ্টার মধ্যে এই কঠোর সিদ্ধান্ত নেয় সংগঠনটি।

আজ শনিবার (১৩ জুন) সন্ধ্যায় সুবর্ণচর উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক রিয়াজ উদ্দিন সৈকত স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

বহিষ্কৃত সফিকুল ইসলাম উপজেলার মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবং চরলক্ষ্মী গ্রামের মনতারাগো বাড়ির সামছুদ্দিন মোল্লার ছেলে।

স্থানীয় ও ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা গেছে, আজ শনিবার বেলা ১১টার দিকে উপজেলার মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের চরলক্ষী গ্রামে মাছ ধরা ও জাল নিয়ে বিরোধের জেরে তাসলিমা আক্তার খুকি (৩৫) নামের এক নারীর সাথে সফিকুলের বাকবিতণ্ডা হয়। তাসলিমা আক্তার খুকি ওই গ্রামের মো. খলিল ড্রাইভারের স্ত্রী।

বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে ক্ষিপ্ত হয়ে যুবদল নেতা সফিকুল একটি শক্ত পাইপ এনে প্রকাশ্য দিবালোকে শত শত মানুষের সামনে ওই নারীকে বেধড়ক পেটাতে শুরু করেন। খুকি মাটিতে লুটিয়ে পড়লেও সফিকুল নিষ্ঠুরভাবে তাঁকে আঘাত করতে থাকেন। উপস্থিত কেউ একজন ঘটনার ভিডিও ধারণ করে ফেসবুকে ছেড়ে দিলে তা মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায়। একজন নারীর ওপর এমন বর্বরোচিত হামলার দৃশ্য দেখে জেলাজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় ওঠে।

ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর বিষয়টি কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় যুবদল নেতৃবৃন্দের নজরে আসে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দলীয় শৃঙ্খলা ও সংগঠনের ভাবমূর্তি রক্ষার্থে আজ বিকেলেই জরুরি বৈঠক ডাকে সুবর্ণচর উপজেলা যুবদল।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সামাজিক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি এবং দলীয় নিয়ম ও আদর্শ পরিপন্থী কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে এক নারীকে প্রকাশ্যে শারীরিক নির্যাতনের সুনির্দিষ্ট অপরাধে মো. সফিকুল ইসলামকে দলের প্রাথমিক সদস্যপদসহ সকল স্তরের পদ থেকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার করা হলো। সুবর্ণচর উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক বেলাল হোসেন সুমন ও সদস্য সচিব নূরুল হুদা ইতিমধ্যে এ সিন্ধান্ত কার্যকর করেছেন।

সুবর্ণচর উপজেলা যুবদলের নেতৃবৃন্দ জানান, কোনো অপরাধীর দায় যুবদল নেবে না। সফিকুলের এই অপকর্ম সম্পূর্ণ তাঁর ব্যক্তিগত। দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের ক্ষেত্রে কোনো প্রকার ছাড় দেওয়া হবে না। একই সাথে পুলিশকে ওই অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

এআইএল/সকালবেলা

মন্তব্য করুন