টাঙ্গাইলে বগি লাইনচ্যুত হয়ে আটকে একাধিক ট্রেন
অনলাইন ডেস্ক: টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা চিলাহাটিগামী 'নীলসাগর এক্সপ্রেস' (৭৬৫) ট্রেনের একটি বগি লাইনচ্যুত হওয়ার পর জয়দেবপুর-যমুনা সেতু রেলসড়কে সকল প্রকার ট্রেন চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। বগি লাইনচ্যুত হয়ে রেললাইনের প্রায় ৯০০ মিটার অংশ ও একটি ছোট ব্রিজের কাঠ-কংক্রিটের একাধিক স্লিপার ভেঙে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় এ সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
আজ বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর ২০২৬) সকাল ৬টা ৪৫ মিনিটে রাজধানী ঢাকা থেকে চিলাহাটির উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসে নীলসাগর এক্সপ্রেস। পরবর্তীতে মির্জাপুর স্টেশন অতিক্রম করে আনুমানিক ৫ কিলোমিটার অগ্রসর হওয়ার পর সকাল পৌনে ৯টার দিকে মহেড়া রেলস্টেশনের অন্তত ২ কিলোমিটার পূর্বে ট্রেনটির 'ঠ' নম্বর বগিটি বিকট শব্দে লাইনচ্যুত হয়।
হঠাৎ লাইনের বাইরে বিকট শব্দে ট্রেনের বগি ঘষা খেতে থাকলে যাত্রীদের মাঝে তীব্র আতঙ্ক ও হুড়োহুড়ি ছড়িয়ে পড়ে। পরবর্তীতে দায়িত্বপ্রাপ্ত টিটিই রাসেল তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি ট্রেনের মূল চালককে (লোকোমাস্টার) অবহিত করলে তিনি দক্ষতা ও বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে মহেড়া স্টেশনের কাছাকাছি এনে ট্রেনটি থামাতে সক্ষম হন। যার ফলে বড় ধরনের নিশ্চিত প্রাণহানি বা বড় দুর্ঘটনা থেকে রেহাই পান হাজারো যাত্রী। দুর্ঘটনায় কোনো যাত্রী বা কর্মী হতাহত হননি।
ঘটনার প্রাথমিক ধকল সামলে মহেড়া স্টেশন কর্তৃপক্ষের অনুমতিসাপেক্ষে সকাল ১০টা ৩ মিনিটে ক্ষতিগ্রস্ত 'ঠ' বগি এবং তৎসংলগ্ন 'ট' বগি দুটি দুর্ঘটনাস্থলে রেখে রেখে বাকি বগিগুলো নিয়ে নীলসাগর এক্সপ্রেস চিলাহাটির উদ্দেশ্যে রওনা দেয়।
তবে মহেড়া স্টেশন এলাকায় রেললাইনের প্রায় ৯০০ মিটার অংশ উধাও ও ধসে যাওয়ায় নিরাপত্তার স্বার্থে জয়দেবপুর-যমুনা সেতু রুটে ট্রেন চলাচল পুরোপুরি বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। মহেড়া রেলস্টেশনের সহকারী স্টেশন মাস্টার রকিবুল হাসান দুর্ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, লাইনচ্যুতির কারণে ঢাকা ও উত্তরবঙ্গমুখী অন্তত দুটি আন্তঃনগর ট্রেন বর্তমানে টাঙ্গাইল স্টেশন এবং যমুনা সেতু পূর্বপার স্টেশনে আটকা পড়ে আছে। ক্ষতিগ্রস্ত ৯০০ মিটার লাইন সম্পূর্ণ মেরামত ও নিরাপত্তা ছাড়পত্র না দেওয়া পর্যন্ত এই রুটে স্বাভাবিক ট্রেন চলাচল পুনরায় চালু করা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছে রেলওয়ে প্র প্রকৌশল বিভাগ।
সকালবেলা / নুসরাত