টেকনাফে দিনদুপুরে গুলি ছুড়ে শিক্ষককে অপহরণ
উখিয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি: কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলায় প্রকাশ্য দিবালোকে গুলি ছুড়ে তীব্র আতঙ্ক সৃষ্টি করে কামাল মাস্টার (৬৫) নামের এক অবসরপ্রাপ্ত সম্মানিত শিক্ষককে অপহরণ করে নিয়ে গেছে একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী।
আজ রবিবার (২৮ জুন) দুপুর ১টার দিকে উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের জুম্মাপাড়া এলাকায় এই দুর্ধর্ষ চুরিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
অপহৃত কামাল মাস্টার জুম্মাপাড়া এলাকার মৃত মকবুল আহমদের ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন শিক্ষকতা পেশার মাধ্যমে এলাকায় আলো ছড়িয়েছেন।
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, দুপুরে পার্শ্ববর্তী গহীন পাহাড় থেকে নেমে আসা একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী হঠাৎ জুম্মাপাড়া এলাকায় প্রবেশ করে। তারা গ্রামে ঢুকেই এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়ে জনমনে চরম আতঙ্ক সৃষ্টি করে। একপর্যায়ে অস্ত্রধারীরা কামাল মাস্টারের বাড়িতে চড়াও হয় এবং তাঁকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যেতে থাকে। এ সময় পরিবারের সদস্যরা বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে সন্ত্রাসীরা আবারও তাঁদের লক্ষ্য করে গুলি বর্ষণ করে এবং শিক্ষককে জিম্মি করে পাহাড়ের গহীন অরণ্যের দিকে চলে যায়। ঘটনার পর থেকে অপহৃত শিক্ষকের আর কোনো খোঁজ মেলেনি বলে জানিয়েছেন তাঁর উদগ্রীব স্বজনরা।
বাহারছড়া ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. ইলিয়াস ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, "আমাদের এলাকার একজন অত্যন্ত সুশিক্ষিত ও সর্বজন শ্রদ্ধেয় ব্যক্তি কামাল মাস্টারকে তাঁর নিজ বাড়ি থেকে অস্ত্রের মুখে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। সন্ত্রাসীদের মুহুর্মুহু গুলিবর্ষণে পুরো এলাকাজুড়ে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। এভাবে যদি দিনের আলোতে প্রতিনিয়ত অপহরণের ঘটনা ঘটে, তবে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কোথায়?" তিনি আরও জানান, বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয় প্রশাসনকে অবহিত করা হয়েছে।
অপহরণের খবর পেয়ে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর একটি বিশেষ টহল দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি পরিদর্শন করে। অপহৃত সাবেক শিক্ষককে উদ্ধার ও সন্ত্রাসীদের আস্তানা গুঁড়িয়ে দিতে বিজিবি ও পুলিশ পাহাড়ের পাদদেশে তল্লাশি ও বিশেষ অভিযান শুরু করেছে।
টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, "সাবেক শিক্ষককে অপহরণের বিষয়টি আমরা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। অপহৃত ব্যক্তিকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার এবং অপরাধীদের গ্রেপ্তারে পাহাড়জুড়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।"
এআইএল/সকালবেলা
|