মসজিদ থেকে মোয়াজ্জিনের লাশ উদ্ধার, আতঙ্কে মুসল্লির মৃত্যু
মো. মাইনুল হক, নীলফামারী প্রতিনিধি: নীলফামারীর ডিমলা উপজেলায় একটি মসজিদ থেকে এক তরুণ মোয়াজ্জিনের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এদিকে, মসজিদে মোয়াজ্জিনের এই ঝুলন্ত মরদেহ দেখে বাড়ি ফেরার পর স্ট্রোক বা হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে এক বৃদ্ধের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।
গত বুধবার (১৫ জুলাই ২০২৬) দিবাগত রাতে উপজেলার ঝুনাগাছ চাপানি ইউনিয়নের কাঁকড়ার বাজার এলাকায় এ জোড়া মৃত্যুর ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিহত মোয়াজ্জিন আব্দুল মালেক (২১) ঝুনাগাছ চাপানি ইউনিয়নের কাঁকড়ার বাজার এলাকার নুরুল হকের ছেলে। তিনি স্থানীয় ওই মসজিদে মোয়াজ্জিনের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি মাঝেমধ্যে ইমামতিও করতেন। বুধবার এশার নামাজ শেষে মুসল্লিরা চলে যাওয়ার পর রাতে কোনো এক সময় আব্দুল মালেক মসজিদের ভেতরে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন। রাত ১টার দিকে এক ব্যক্তি মসজিদে গিয়ে তাঁর ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পেয়ে চিৎকার করলে স্থানীয়রা ছুটে আসেন এবং police-এ খবর দেন।
এদিকে, গভীর রাতে মসজিদের ভেতর তরুণ মোয়াজ্জিনের এমন আকস্মিক ও মর্মান্তিক মরদেহ দেখে তীব্র আতঙ্ক ও মানসিকভাবে আঘাত পান একই এলাকার এক বৃদ্ধ প্রতিবেশী। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মরদেহ দেখে বাড়ি ফেরার পরপরই তিনি হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং কিছুক্ষণের মধ্যেই তাঁর মৃত্যু হয়। স্থানীয়দের ধারণা, তরুণ মোয়াজ্জিনের আত্মহত্যার দৃশ্য সইতে না পেরে তিনি স্ট্রোক বা হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন।
ঝুনাগাছ চাপানি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আমিনুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, গভীর রাতে তিনি মোয়াজ্জিনের আত্মহত্যার খবর পান এবং সকালে জানতে পারেন যে ওই মরদেহ দেখে এসে আতঙ্কে ও হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে স্থানীয় এক ব্যক্তি মারা গেছেন।
ডিমলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শওকত আলী সরকার জানান, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে মোয়াজ্জিনের মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। আজ বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সকালে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ নীলফামারী আধুনিক সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এটি আত্মহত্যা নাকি এর পেছনে অন্য কোনো রহস্য রয়েছে, তা উদঘাটনে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।
এআইএল/সকালবেলা
|