যমুনার ভাঙনরোধে বালুর বস্তা ফেলার দাবিতে মানববন্ধন

প্রকাশ: শনিবার, ২২ আগস্ট ২০২৬, ০৩:৫০ অপরাহ্ণ
যমুনার ভাঙনরোধে বালুর বস্তা ফেলার দাবিতে মানববন্ধন

মো. আব্দুল কুদ্দুস, সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি: সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার সোনাতনী ইউনিয়নের কুরসি ও ধীতপুর গ্রামে যমুনা নদীর ভয়াবহ ভাঙনে বিলীন হয়ে গেছে প্রায় দুই শতাধিক বাড়িঘর। এর ফলে ভিটামাটিহারা একাধিক পরিবার যাওয়ার জায়গা না পেয়ে পলিথিন ও মাছ ধরার জালের জরাজীর্ণ বেড়ায় ভিটেতে মানবেতর জীবনযাপন করছে।

অবিলম্ব নদীভাঙন ঠেকাতে বালুর বস্তা ফেলার দাবিতে সম্প্রতি কুরসি বাজার এলাকায় যমুনার তীরে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে সর্বস্তরের ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাবাসী।

সমাবেশে জিন্নাহ মন্ডল, আব্দুল মালেক, আব্দুস সামাদ, ফিটার সরদার ও লষ্কর আলীসহ স্থানীয় বক্তব্য উপস্থাপন করেন। বক্তারা জানান, চলতি বর্ষার শুরু থেকে সোনাতনী ইউনিয়নের শ্রীপুর, ধীতপুর, কুরসী, বারপাখিয়া এবং গালা ইউনিয়নের মোহনপুর ও হাতকোড়া গ্রামে যমুনার ভাঙন তীব্র রূপ নেয়। গত ৩ মাসে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে শত শত ঘরবাড়ি, ২টি মসজিদ-মাদ্রাসা, ২টি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং প্রায় ২ হাজার বিঘা আবাদি জমি। ভাঙন এতোটাই দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে যে গৃহস্থালি আসবাবপত্র সরানোর সুযোগও মিলছে না।

ভাঙনের মুখে স্থানীয় হাট-বাজার ও বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় চরম বিপাকে পড়েছেন কৃষকেরা। বিদ্যুৎহীন আঁধারে গবাদিপশু পাহারা দিতে হচ্ছে এবং ব্যাহত হচ্ছে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা। ধীতপুর গ্রামের আন্না খাতুন বলেন, "আমার বাবার ভিটা যমুনায় ভেঙে গেছে, যাওয়ার জায়গা না থাকায় খোলা চালে মাছ ধরার ঝাঁকিজাল দিয়ে ঘিরে সন্তান নিয়ে দিন কাটাচ্ছি। সরকার থেকে দেওয়া ১ কেজি চাল ছাড়া আর কোনো সাহায্য পাইনি।"

এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করে স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেন, পাউবোর অবহেলায় পুরো গ্রাম নদীগর্ভে তলিয়ে যাচ্ছে। বাঁশের ছটকা তৈরি করে বালুর বস্তা ডাম্পিং করলে ভাঙন রোধ করা সম্ভব হতো বলে তাঁরা জানান।

শাহজাদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাবরিনা শারমিন জানান, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন শেষে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ও পানি উন্নয়ন বোর্ডকে বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে কিছু ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে এবং দ্রুত পুনর্বাসনের পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।

অন্যদিকে সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মখলেছুর রহমান জানান, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাটি যমুনার চরাঞ্চল হওয়ায় সেখানে তাঁদের নির্ধারিত কোনো প্রকল্প নেই। নতুন কোনো প্রকল্প অনুমোদন পেলে ভাঙন প্রতিরোধে কাজ শুরু করা হবে।

এআইএল/সকালবেলা

মন্তব্য করুন