কক্সবাজারে মা-মেয়েকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ

প্রকাশ: মঙ্গলবার, ০৯ জুন ২০২৬, ০৩:৪৯ অপরাহ্ণ
কক্সবাজারে মা-মেয়েকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ

ইমতিয়াজ মাহমুদ ইমন, কক্সবাজার প্রতিনিধি: কক্সবাজারের নবগঠিত মাতামুহুরী উপজেলায় এক প্রবাসীর বাড়িতে ভয়াবহ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় প্রবাসীর স্ত্রী ও তাঁর দশম শ্রেণিতে পড়ুয়া মেয়েকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করার লোমহর্ষক অভিযোগ উঠেছে ডাকাতদলের বিরুদ্ধে। এই জঘন্য ঘটনার পর পুলিশ ও স্থানীয় জনতার যৌথ তৎপরতায় অভিযান চালিয়ে ৬ জনকে আটক করা হয়েছে।

গতকাল সোমবার (৮ জুন) রাত আড়াইটার দিকে উপজেলার পূর্ব বড়ভেওলা ইউনিয়নের সিকদারপাড়া ডলনিরঘোনা এলাকায় এই বর্বরোচিত ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সোমবার দিবাগত গভীর রাতে ৮ থেকে ১০ জনের একটি সশস্ত্র ডাকাতদল ওই প্রবাসীর বাড়ির জানালার গ্রিল কেটে ভেতরে প্রবেশ করে। তারা অস্ত্রের মুখে পরিবারের সবাইকে জিম্মি করে নগদ টাকা, স্বর্ণালংকারসহ মূল্যবান মালামাল লুট করে। মালামাল লুট শেষে একপর্যায়ে ডাকাতদল ওই বাড়িতে অবস্থানরত প্রবাসীর স্ত্রী ও তাঁর স্কুলপড়ুয়া মেয়েকে আটকে রেখে পাশবিকভাবে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করে নির্বিঘ্নে পালিয়ে যায়।

পরে প্রতিবেশীরা এসে গুরুতর আহত মা ও মেয়েকে উদ্ধার করে প্রথমে চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে তাদের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য দ্রুত কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

ভুক্তভোগী স্কুলছাত্রীর মামা সাইদুল ইসলাম মারুফ কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানান, “ডাকাতদল আমার বোন ও ভাগ্নির ওপর মধ্যযুগীয় কায়দায় পাশবিক অত্যাচার চালিয়েছে। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে বর্তমানে আমার ভাগ্নির অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। চিকিৎসকরা তাকে সদর হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) রেখে চিকিৎসা দিচ্ছেন।” এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার পর পুরো জেলায় তীব্র ক্ষোভ ও আসামিদের ফাঁসির দাবিতে উত্তেজনা বিরাজ করছে।

ঘটনার খবর পেয়ে চকরিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) অভিজিৎ দাশসহ থানা ও তদন্ত কেন্দ্রের একাধিক টিম রাতেই ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করে। মাতামুহুরী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের পরিদর্শক মো. মাসুদ ডাকাতি ও ধর্ষণের ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

এদিকে এই নৃশংস ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বিক্ষুব্ধ জনতা ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পুরো এলাকা ঘিরে ফেলে চিরুনি অভিযান শুরু করে। আজ মঙ্গলবার (৯ জুন) ভোর থেকে সকাল পর্যন্ত পরিচালিত বিশেষ অভিযানে ঘটনার সাথে সরাসরি জড়িত ৬ জনকে আটক করা হয়েছে। আটককৃতদের মধ্যে ৫ জনের নাম জানা গেছে, তাঁরা হলেন— রেজাউল, মেহেদী, বাবু, কেফায়েত ও তানজিদ। তাঁরা সবাই পূর্ব বড়ভেওলা ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের বাসিন্দা।

চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনির হোসেন ঘটনার সত্যতা ও ৬ জনকে আটকের তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, “ধর্ষণের শিকার মা-মেয়ের চিকিৎসার বিষয়টি পুলিশ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। আটককৃতদের নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এই জঘন্য অপরাধের সাথে জড়িত বাকি ডাকাতদের ধরতেও পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় মাঠে অভিযান চলছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলমান।”

এআইএল/সকালবেলা