ভিডিও
স্টোরি
ফটো স্টোরি
তিমির বনিক, মৌলভীবাজার: দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর কাঙ্ক্ষিত বৃষ্টির ছোঁয়ায় সজীব হয়ে উঠেছে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলের চা বাগানগুলো। দীর্ঘ খরার অবসান ঘটিয়ে শুক্রবারের এই এক ফসলা বৃষ্টি যেন সবুজ গালিচার মতো ছড়িয়ে থাকা চা গাছগুলোর শরীরে নতুন প্রাণের সঞ্চার করেছে।
শুক্রবার ভোর ৫টা থেকে ৬টার মধ্যে প্রথম দফায় ৩.৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়। এরপর দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত নামে আরও ভারী বর্ষণ, যার পরিমাণ ছিল ৩২.৫ মিলিমিটার। সব মিলিয়ে দিনের শেষে মোট ৩৬.৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এই বৃষ্টির টুপটাপ শব্দ আর ভেজা মাটির গন্ধ বাগানজুড়ে ছড়িয়ে দিয়েছে স্বস্তির আমেজ।
বাংলাদেশ চা গবেষণা ইনস্টিটিউটের কীটতত্ত্ব বিভাগের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. শামীম আল-মামুন জানান:
“চা গাছের বৃদ্ধি ও পাতা উৎপাদনের জন্য বৃষ্টি অত্যন্ত জরুরি। একটি পরিণত চা গাছের গ্রীষ্মকালে প্রতিদিন প্রায় ৬ মিলিমিটার পানির প্রয়োজন হয়। চা শিল্পের আদর্শ ফলনের জন্য বছরে দুই হাজার মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাত প্রয়োজন।”
গত জানুয়ারি মাস থেকে বৃষ্টি না হওয়ায় বাগানগুলোতে সেচ দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছিল। অনেক এলাকায় পানির উৎস বা জলাধার শুকিয়ে যাওয়ায় আধুনিক স্প্রিঙ্কলার সেচ ব্যবস্থাও অচল হয়ে পড়েছিল। প্রকৃতির এই হঠাৎ দানে সেই সংকট থেকে মুক্তি পেলেন বাগান মালিক ও শ্রমিকেরা। মাটিতে ফিরে এসেছে প্রয়োজনীয় আর্দ্রতা, যা ছাঁটাই করা গাছগুলোকে দ্রুত কুঁড়ি ছাড়তে সাহায্য করবে।
বৃষ্টির পর বাগানের শ্রমিকদের চোখেমুখে ফুটে উঠেছে আশার আলো। এখন বাগানের ডালপালায় উঁকি দেবে সেই কাঙ্ক্ষিত দৃশ্য—‘দুটি পাতা একটি কুঁড়ি’। শ্রমিকরা মনে করছেন, ভালো ফলন হলে মালিকরা যেমন লাভবান হবেন, তেমনি তাদের ন্যায্য অধিকার প্রাপ্তিও সহজ হবে। নতুন মৌসুমে কুঁড়িভরা ঝুড়ি নিয়ে ফেরার স্বপ্ন এখন বাগানজুড়ে।
| আজকের তারিখঃ বঙ্গাব্দ