চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে দুর্ঘটনায় নিহত ২

প্রকাশ: রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬, ০৪:০৯ অপরাহ্ণ
চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে দুর্ঘটনায় নিহত ২

অনলাইন ডেস্ক: চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের চকরিয়ায় নোয়া এক্সাহেড বা মাইক্রোবাস এবং মোটরসাইকেলের মধ্যে মুখোমুখি ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে মোটরসাইকেলের দুই আরোহী ঘটনাস্থলেই নিহত হয়েছেন এবং অপর এক আরোহী গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

আজ রোববার (২৮ জুন) সকাল ৯টার দিকে চকরিয়া উপজেলার বরইতলী ইউনিয়নের পেকুয়া-বানৌজা সংযোগ সড়কে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি ঘটে।

নিহত ব্যক্তিরা হলেন— চকরিয়া উপজেলার বরইতলী ইউনিয়নের মোহাজের পাড়া এলাকার মৃত আবুল কালামের ছেলে মোহাম্মদ মাহবুব (২৮) এবং একই এলাকার মৃত কামাল হোসেনের ছেলে মোহাম্মদ রাসেল (২৫)। এই দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত অপর মোটরসাইকেল আরোহী মোহাম্মদ শাহেদ (২৫) বর্তমানে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। নিহত ও আহতরা সবাই একে অপরের বন্ধু ও প্রতিবেশী বলে জানা গেছে।

পুলিশ ও স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, সকালে মাহবুব, রাসেল ও শাহেদ একটি মোটরসাইকেলযোগে বরইতলী থেকে চকরিয়ার দিকে যাচ্ছিলেন। মোটরসাইকেলটি চালাচ্ছিলেন মাহবুব এবং তাঁর পেছনে বসা ছিলেন শাহেদ ও রাসেল। তাদের বহনকারী দ্রুতগামী মোটরসাইকেলটি চকরিয়া-পেকুয়ার বানৌজা সড়কের সংযোগস্থলে পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি দ্রুতগতির মাইক্রোবাসের সঙ্গে সেটির মুখোমুখি তীব্র সংঘর্ষ হয়।

সংঘর্ষের চোটে মোটরসাইকেলটি সম্পূর্ণ দুমড়েমুচড়ে রাস্তার পাশে গভীর খাদে ছিটকে পড়ে যায়। এতে মোটরবাইকে থাকা তিন আরোহীই পিচঢালা রাস্তায় ছিটকে পড়ে রক্তাক্ত ও গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয় লোকজন ও পথচারীরা দ্রুত এগিয়ে এসে তাঁদের উদ্ধার করে চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। তবে হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে মাহবুব ও রাসেলকে মৃত ঘোষণা করেন। এছাড়া আশঙ্কাজনক অবস্থায় থাকা শাহেদকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য দ্রুত চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়।

চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনির হোসেন দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “ঘটনার খবর পাওয়া মাত্রই পুলিশ দ্রুত টিম পাঠিয়ে ঘটনাস্থল থেকে স্থানীয়দের সহায়তায় আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার ব্যবস্থা করে। হাসপাতালে নেওয়ার পর তিনজনের মধ্যে দুজনকে ডাক্তার মৃত ঘোষণা করেছেন। নিহতদের মরদেহের প্রাথমিক সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করা হয়েছে। পরবর্তীতে পরিবারের কোনো অভিযোগ না থাকায় এবং ময়নাতদন্ত ছাড়া লাশ দাফনের দাবির প্রেক্ষিতে মরদেহ দুটি স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।”

ওসি আরও জানান, ঘটনাস্থল থেকে দুর্ঘটনা কবলিত ধুমড়ে-মুচড়ে যাওয়া মোটরসাইকেল এবং ঘাতক মাইক্রোবাসটি জব্দ করে থানা হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তবে মাইক্রোবাসের চালক পালিয়ে গেছে। এই ঘটনায় নিহতদের পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো লিখিত অভিযোগ বা মামলা দায়ের করা হলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

মন্তব্য করুন