সড়ক, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা থেকে বঞ্চিত মৌলভীবাজার-১; পরিবর্তনের প্রত্যাশা ভোটারদের

সড়ক, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা থেকে বঞ্চিত মৌলভীবাজার-১; পরিবর্তনের প্রত্যাশা ভোটারদের

তিমির বণিক, মৌলভীবাজার প্রতিনিধি: মৌলভীবাজারের বড়লেখা ও জুড়ী উপজেলা নিয়ে গঠিত মৌলভীবাজার-১ আসন। প্রায় সাড়ে তিন লাখ জনসংখ্যা অধ্যুষিত এই জনপদটি দীর্ঘকাল ধরে স্বাস্থ্য, সড়ক, শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের মতো মৌলিক খাতগুলোতে কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে এই অবহেলিত জনপদের ভোটারদের মধ্যে এবার পরিবর্তনের জোরালো প্রত্যাশা দেখা যাচ্ছে।

এলাকার সাধারণ মানুষের মতে, বড়লেখা ও জুড়ীতে সবচেয়ে ভয়াবহ অবস্থা স্বাস্থ্য খাতের। স্থানীয়দের অভিযোগ, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে পর্যাপ্ত চিকিৎসক ও আধুনিক সরঞ্জামের অভাব রয়েছে। মুমূর্ষু রোগীদের প্রায়ই সিলেটে রেফার করা হয়, যার ফলে পথেই অনেকের মৃত্যু ঘটে। তাই জরুরি ভিত্তিতে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নিয়োগ ও আধুনিক অ্যাম্বুলেন্স সেবার দাবি জানিয়েছেন তারা।

অন্যদিকে সড়ক ব্যবস্থাও সংকটাপন্ন। যত্রতত্র অবৈধ পার্কিং ও ফুটপাত দখলের কারণে যানজট ও দুর্ঘটনা নিত্যদিনের সঙ্গী। সাধারণ মানুষ ও শিক্ষার্থীরা দীর্ঘমেয়াদি সড়ক সংস্কার ও ট্রাফিক আইন কঠোরভাবে বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন। মাধবকুণ্ড জলপ্রপাত ও হাকালুকি হাওরের মতো পর্যটন কেন্দ্র থাকলেও স্বাধীনতার পর এই অঞ্চলে পর্যটন শিল্পের উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে দাবি করেন স্থানীয়রা। চা শ্রমিকদের অভিযোগ, অনেক বাগানে এখনো সরকার ঘোষিত ন্যূনতম মজুরি বাস্তবায়িত হয়নি।

মৌলভীবাজার-১ আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ৩৭ হাজার ৮১৬ জন। ১১৩টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এবারের নির্বাচনে মোট ৬ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তারা হলেন:

  • নাসির উদ্দিন আহমেদ (বিএনপি - ধানের শীষ)

  • মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম (জামায়াতে ইসলামী - দাঁড়িপাল্লা)

  • আহমেদ রিয়াজ উদ্দিন (জাতীয় পার্টি - লাঙল)

  • মো. আব্দুন নুর (গণঅধিকার পরিষদ - ট্রাক)

  • মো. শরিফুল ইসলাম (গণফ্রন্ট - মাছ)

  • বেলাল আহমদ (স্বতন্ত্র - কাপ-পিরিচ)

নির্বাচনী প্রচারণায় বিএনপি প্রার্থী নাসির উদ্দিন আহমেদ বলেন, “জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত সমর্থন পাচ্ছি। নির্বাচিত হলে বড়লেখা-জুড়ীর সব সমস্যার সমাধানে কাজ করব।” জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম বলেন, “ভোটাররা পরিবর্তন চান। নির্বাচিত হলে পর্যটন শিল্পের উন্নয়নসহ নাগরিক সব সমস্যার সমাধানে আমি আন্তরিক থাকব।”

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিন পর সব দলের অংশগ্রহণে উৎসবমুখর পরিবেশে নির্বাচন হতে যাওয়ায় বড়লেখা ও জুড়ীতে এবার হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের সম্ভাবনা রয়েছে।

মন্তব্য করুন