গোপালগঞ্জে ১৯৭টি ভোটকেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ, জোরদার নিরাপত্তা—সহিংসতায় জনপদে আতঙ্ক

গোপালগঞ্জে ১৯৭টি ভোটকেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ, জোরদার নিরাপত্তা—সহিংসতায় জনপদে আতঙ্ক

হেলাল মুন্সী, গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি: আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে গোপালগঞ্জ জেলার তিনটি সংসদীয় আসনে ১৯৭টি ভোটকেন্দ্রকে ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ। সম্প্রতি জেলা ও দায়রা জজের বাসভবন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে ককটেল বিস্ফোরণের পর পুরো জেলায় এক ধরনের থমথমে পরিস্থিতি ও জনমনে আতঙ্ক বিরাজ করছে। এই অবস্থায় সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা সর্বোচ্চ পর্যায়ে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে প্রশাসন।

জেলা পুলিশ ও রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ১৯০টির বেশি কেন্দ্রকে ‘অধিক ঝুঁকিপূর্ণ’ ও ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ তালিকায় রাখা হয়েছে। বিশেষ করে গত বুধবার (২৮ জানুয়ারি) রাতে জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ শামছুল হকের সরকারি বাসভবনে দুর্বৃত্তদের ককটেল নিক্ষেপের ঘটনায় নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এর আগে সোমবার রাতেও গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের গেটের সামনে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর না থাকলেও সাধারণ ভোটারদের মধ্যে কেন্দ্রে যাওয়া নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে।

জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা আরিফ উজ জামান বলেন, “ভোটারদের শতভাগ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমরা প্রস্তুত। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে অতিরিক্ত পুলিশ, আনসার এবং বিজিবির বিশেষ টহল টিম মোতায়েন করা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে চেকপোস্ট বসানো হয়েছে এবং গোয়েন্দা নজরদারি কয়েকগুণ বাড়ানো হয়েছে।”

এদিকে স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গত জুলাইয়ের সহিংসতার স্মৃতি এবং সাম্প্রতিক ককটেল বিস্ফোরণ তাদের ভাবিয়ে তুলছে। শহরের অনেক এলাকায় লোকজনকে সন্ধ্যার পর সতর্ক থাকতে দেখা গেছে। তবে প্রশাসনের দৃশ্যমান তৎপরতায় কেউ কেউ স্বস্তি প্রকাশ করলেও, প্রান্তিক পর্যায়ের অনেক ভোটার এখনো সিদ্ধান্ত নিতে পারেননি তারা ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটকেন্দ্রে যাবেন কি না।

পুলিশ সুপার মো. হাবিবুল্লাহ জানিয়েছেন, বিচারকের বাসভবনে হামলার ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করতে কাজ করছে পুলিশ ও সেনাবাহিনী। নির্বাচনের আগে কোনো ধরনের অস্থিতিশীল পরিবেশ বরদাশত করা হবে না। আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও ভোটারদের নির্ভয়ে ভোট দেওয়ার পরিবেশ তৈরি করতে যৌথ বাহিনীর অভিযান অব্যাহত থাকবে।

এম.এম/সকালবেলা

মন্তব্য করুন