ভিডিও
স্টোরি
ফটো স্টোরি
তিমির বণিক, মৌলভীবাজার প্রতিনিধি: মৌলভীবাজার-৩ (সদর ও রাজনগর) আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাঠ যখন হেভিওয়েট প্রার্থীদের শোডাউন, মাইকিং আর বিশাল ব্যানারে সয়লাব, ঠিক তখনই এক ব্যতিক্রমী প্রচারণায় নজর কেড়েছেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) বর্ষীয়ান নেতা জহর লাল দত্ত। কাস্তে প্রতীকের এই প্রার্থী কোটি টাকার জৌলুস বর্জন করে মেহনতি মানুষের দ্বারে দ্বারে গিয়ে এক নিঃশব্দ লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন।
বড় দলগুলোর প্রার্থীদের মতো জহর লাল দত্তের নেই কোনো বিশাল গাড়িবহর বা কর্মী বাহিনী। তাকে দেখা যাচ্ছে হাসপাতালের করিডরে রোগী ও স্বজনদের সাথে কুশল বিনিময় করতে কিংবা রাস্তার ধারের চায়ের দোকানে সাধারণ মানুষের আড্ডায় মিশে যেতে। বিশাল জনসভার বদলে তিনি বেছে নিয়েছেন ছোট ছোট উঠান বৈঠক। ১০-১২ জন সাধারণ মানুষকে নিয়ে বাড়ির আঙিনায় বসেই তিনি তুলে ধরছেন মেহনতি মানুষের অধিকারের কথা।
বর্তমান সময়ের কাদা-ছোড়াছুড়ি ও বিষোদগারপূর্ণ রাজনীতির বিপরীতে জহর লাল দত্ত এক বিরল উদাহরণ সৃষ্টি করেছেন। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের নিয়ে কোনো কটু কথা না বলে তিনি শুধু নিজের সততা ও আদর্শের ওপর ভিত্তি করে মানুষের দোয়া ও সমর্থন চাইছেন। তাঁর এই মার্জিত আচরণ ভোটারদের মাঝে ব্যাপক ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে। স্থানীয়দের মতে, নির্বাচনের ফলাফল যাই হোক, জহর লাল দত্ত মৌলভীবাজারের রাজনীতিতে এক স্নিগ্ধ ও ইতিবাচক বার্তা পৌঁছে দিচ্ছেন।
প্রচারণায় কিছুটা নীরব থাকলেও রাজপথে জহর লাল দত্তের রয়েছে ৪০ বছরের আপসহীন সংগ্রামের ইতিহাস। নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে চা শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধি, হাওর রক্ষা আন্দোলন এবং কৃষকদের ন্যায্য অধিকার আদায়ের প্রতিটি লড়াইয়ে তিনি অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন। অসাম্প্রদায়িক চেতনা ও মেহনতি মানুষের অধিকার রক্ষায় নিবেদিতপ্রাণ এই নেতা টাকার দাপটের কাছে হার না মেনে নিজের নীতি ও আদর্শের লড়াইয়ে অটল রয়েছেন।
টি.বি/সকালবেলা
| আজকের তারিখঃ বঙ্গাব্দ