গণঅভ্যুত্থানের পর আ.লীগকে ‘সাধারণ ক্ষমা’ করেছিল জামায়াত: রাশেদ খাঁন
চব্বিশের ঐতিহাসিক গণ-অভ্যুত্থানের পর আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের প্রতি জামায়াতে ইসলামী পরিকল্পিত নমনীয় অবস্থান নিয়েছিল এবং অভ্যুত্থানের মাত্র এক মাসের মধ্যে ‘সাধারণ ক্ষমা’ ঘোষণা করে দলটিকে স্বাভাবিক করার সুযোগ তৈরি করেছিল বলে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী মো. রাশেদ খাঁন।
আজ মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬) দুপুরে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক বিস্ফোরক স্ট্যাটাসে তিনি এই রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া ও অভিযোগ তুলে ধরেন।
ফেসবুক পোস্টে রাশেদ খাঁন লেখেন, “গণ-অভ্যুত্থানের এক মাস যেতে না যেতেই আওয়ামী লীগকে তথাকথিত ‘সাধারণ ক্ষমা’ ঘোষণা করেন জামায়াতের আমির! মূলত আগামী দিনের ভোটের রাজনীতির জটিল সমীকরণের কারণে জামায়াত আওয়ামী লীগের তৃণমূলের প্রতি চরম নমনীয়তা দেখায়। আর এই অপ্রত্যাশিত সুবিধাই বাস্তবে পতিত আওয়ামী লীগের অপরাধীদের বিচারের পথে সবচেয়ে বড় প্রাতিষ্ঠানিক বাধা হয়ে দাঁড়ায়।”
তিনি আরও দাবি করেন, “এর ফলে ধীরে ধীরে আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে ‘নরমালাইজড’ হয়ে যায়। এরপর আওয়ামী লীগের নেতারা প্রকাশ্যে-অপ্রকাশ্যে প্রচার শুরু করেন যে, যারা অতীতে আওয়ামী লীগ করতেন তারা জামায়াতে যোগদান করলে তাদের যাবতীয় নিরাপত্তা ও দায়দায়িত্ব নেওয়া হবে। এর সুবাদে দেশের বিভিন্ন এলাকায় গোপনে এবং প্রকাশ্যে বহু আওয়ামী নেতাকর্মী রাতারাতি জামায়াত কর্মী সেজে আত্মগোপন ও পুনর্বাসনের সুযোগ পায়।”
ইতালির ভেনিসে অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধনের ওপর সাম্প্রতিক হেনস্তার ঘটনার দিকে ইঙ্গিত করে রাশেদ খাঁন লেখেন, “আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক কবজা করে জামায়াতের দ্রুত ক্ষমতায় যাওয়ার অতিরিক্ত লিপ্সার কারণেই আওয়ামী অপরাধীদের সঠিক ও দৃশ্যমান বিচার নিশ্চিত করা যায়নি। আর অপরাধীদের যথাসময়ে কঠোর শাস্তি না দিলে তারা আরও কতটা বেপরোয়া হয়ে ওঠে, অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধনের ওপর বিদেশে সংঘটিত আচরণে তা সরাসরি স্পষ্ট হলো।”
জামায়াতের নীতিনির্ধারকদের কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী আরও লেখেন, “আওয়ামী লীগ কেবল একটি অনুকূল সুযোগের অপেক্ষায় ওত পেতে আছে। জামায়াত যতই আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসন করে নিজেদের দল ভারী বা ভোটব্যাংক সমৃদ্ধ করতে চাক না কেন—ওরা কোনো দিন যদি আবার ঘুরে দাঁড়াতে পারে, তবে সবার আগে জামায়াতকে ধ্বংস করার মধ্য দিয়েই তাদের রাজনৈতিক প্রতিশোধ শুরু করবে। তাই জামায়াত ও এনসিপির প্রতি আমাদের স্পষ্ট অনুরোধ থাকবে, কোনো লংমার্চ কিংবা রাজনৈতিক কর্মসূচির স্বার্থে আওয়ামী ব্যবসায়ী ও শীর্ষ নেতাদের কাছ থেকে আর্থিক তহবিল কিংবা বিলাসবহুল প্রাডো গাড়ি নিয়ে তাদের রাজনৈতিক পুনর্বাসন করা অবিলম্বে বন্ধ করুন।”
আওয়ামী লীগকে ‘জাতির শত্রু’ আখ্যা দিয়ে তিনি আরও উল্লেখ করেন, ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগ দল হিসেবে এবং তাদের চিহ্নিত অপরাধীদের দ্রুত বিচারে একটি মজবুত জাতীয় ও সামাজিক ঐক্য জরুরি।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, “যেহেতু জামায়াতের আমির গণ-অভ্যুত্থানের পরপরই আওয়ামী লীগকে কোনো পূর্বশর্ত ছাড়া সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করে সামগ্রিক বিচারের প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করেছিলেন, সেহেতু জামায়াতের আমিরের উচিত সংসদে দাঁড়িয়ে পুরো জাতির কাছে নিঃশর্তভাবে ক্ষমা চাওয়া এবং আওয়ামী লীগের অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে সর্বদলীয় রাজনৈতিক ঐকমত্যের নতুন প্রস্তাব উত্থাপন করা।”
সবশেষে রাশেদ খাঁন স্পষ্টভাবে সতর্ক করে দিয়ে বলেন, “বর্তমান বিএনপি সরকার একদিকে আওয়ামী অপরাধীদের আইনি বিচারের মুখোমুখি করার কঠিন কাজ পরিচালনা করবে, আর অন্যদিকে ভোটের লোভে জামায়াত যদি তলে তলে তাদের নিরাপদে পুনর্বাসিত করতে চায়, তবে ভবিষ্যতে আওয়ামী লীগ আবারো বিপজ্জনকভাবে এই জনপদে প্রাসঙ্গিক হয়ে ফিরে আসবে।”