আমাদের সাত দাবির একটিও দলীয় নয়, সব জনগণের: জামায়াত আমির

প্রকাশ: বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:০৫ অপরাহ্ণ
আমাদের সাত দাবির একটিও দলীয় নয়, সব জনগণের: জামায়াত আমির
জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান (ফাইল ছবি)।

নিজস্ব প্রতিবেদক, একাত্তর: জনগণের স্বার্থে ঘোষিত সাত দফা দাবির মধ্যে জামায়াতে ইসলামীর নিজস্ব কোনো দলীয় দাবি নেই বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন দলটির আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান। সরকারের উদ্দেশে প্রশ্ন রেখে তিনি বলেছেন, “আমরা জনগণের স্বার্থে সাতটি দাবি নিয়ে রাস্তায় নেমেছি। আপনারা বলুন, আমাদের যে সাতটি দাবি আছে, তার মধ্যে কোনটি আমাদের দলের দাবি?”

আজ বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬) জামায়াত ইসলামী বিটের সাংবাদিকদের সঙ্গে আয়োজিত এক গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভা শেষে সমসাময়িক রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও সরকারের বিভিন্ন নীতি নিয়ে কথা বলার সময় তিনি এ কথা বলেন।

চলমান রাজনৈতিক কর্মসূচি ও লংমার্চ প্রসঙ্গে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, “লংমার্চ কি এই প্রথম হচ্ছে? রোডমার্চ বা লংমার্চ কি এর আগে কখনো হয়নি? এর আগেও আমরা বর্তমান সরকারি দলের সঙ্গে যৌথভাবে কিংবা আলাদাভাবে নিজেদের দাবি আদায়ের জন্য আন্দোলন করেছি। রাজপথের কর্মসূচি হলো জনগণের অধিকার আদায়ের একটি অত্যন্ত স্বাভাবিক ও গণতান্ত্রিক মাধ্যম।”

কর্মসূচির পরিবেশ ও নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি আরও বলেন, “ধরুন, আগামী কাল আমাদের লংমার্চ। তাহলে কি আজকে আমরা ককটেল ফোটা্ব, বাসে আগুন দেবো বা ঢাকাকে অস্থিতিশীল করব? এটা কি কোনো সুস্থ মানুষ বা পাগলও কখনো করবে?”

জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর সরকারি সিদ্ধান্তের কঠোর সমালোচনা করে শফিকুর রহমান বলেন, যিনি বা যারা তেলের দাম বাড়িয়েছেন, এই মূল্যবৃদ্ধি কেবল তাদের জন্যই ‘সহনীয়’ হতে পারে, দেশের সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষের জন্য এটি কোনোভাবেই সহনীয় নয়। চাকরির পাশাপাশি অতিরিক্ত আয়ের জন্য রাইড শেয়ারিং করা তরুণদের উদাহরণ টেনে তিনি জানান, তেলের দাম লিটারে ২০ টাকা বাড়লে একজন শ্রমজীবী যুবকের ওপর ঠিক কতটা চরম আর্থিক চাপ সৃষ্টি হয়, তা কেবল ভুক্তভোগী মাত্রই অনুধাবন করতে পারেন। এই দাম বৃদ্ধির সর্বগ্রাসী ও নেতিবাচক প্রভাব পুরো সমাজব্যবস্থার ওপর পড়ছে।

রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যকার বর্তমান দূরত্ব ও বিভেদের প্রসঙ্গ টেনে বিরোধীদলীয় নেতা অভিযোগ করেন, গত ১২ ফেব্রুয়ারির আগে ফ্যাসিবাদবিরোধী সব রাজনৈতিক দল একটি অভিন্ন অবস্থানে থাকলেও শপথ অনুষ্ঠানে গণভোটের রায়কে অস্বীকার করার পর মূলত দলগুলোর মাঝে নীতিগত দ্বিমত তৈরি হয়। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে যে অনাকাঙ্ক্ষিত বিভেদ আজ দেখা দিয়েছে, তার সম্পূর্ণ দায় সরকারকেই নিতে হবে। জুলাই সনদ ও গণভোটের রায় যথাযথভাবে বাস্তবায়ন না করার কারণে সরকার ধীরে ধীরে জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

নির্বাচনী ইশতেহার ও জনপ্রতিনিধিদের সুযোগ-সুবিধা প্রসঙ্গে শফিকুর রহমান বলেন, নির্বাচনের আগে প্রত্যেকেই জনগণের সেবক হওয়ার কথা জোরালোভাবে বললেও ক্ষমতা বা ভোটের পর অনেকেই শাসক হয়ে বসে যান। তাই বর্তমান প্রেক্ষাপটে মন্ত্রীদের সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর যেকোনো ধরনের অযৌক্তিক বা অতিরিক্ত উদ্যোগের কঠোর বিরোধিতা করবে জামায়াতে ইসলামী।

এ সময় জাতীয় সংসদকে দেশের প্রকৃত জনগণের প্রত্যাশার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি। পাশাপাশি রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ হিসেবে সাংবাদিক সমাজের উপযুক্ত বেতন-ভাতা ও পূর্ণ পেশাগত মর্যাদা নিশ্চিত করার জোরালো আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “সাংবাদিকতাকে দেশের চতুর্থ স্তম্ভ বলা হয়। এই স্তম্ভকে সুস্থ ও শক্তিশালী রাখতে হবে। কারণ, এই স্তম্ভ ভালো না থাকলে সমাজের সবকিছুই একসময় নষ্ট হয়ে যাবে। তখন যারা সমাজবিরোধী বা খারাপ কাজ করে, তাদের সমালোচনা করার বা সঠিক চিত্র তুলে ধরার মতো কেউ আর অবশিষ্ট থাকবে না।”

মন্তব্য করুন