মে দিবসের চেতনা ও বাংলাদেশের শ্রমজীবী মানুষের অধিকার

প্রকাশ: শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬, ১০:২৬ পূর্বাহ্ণ
মে দিবসের চেতনা ও বাংলাদেশের শ্রমজীবী মানুষের অধিকার

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা: আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস—মহান মে দিবস—শ্রমজীবী মানুষের অধিকার, মর্যাদা ও ন্যায্যতার সংগ্রামের এক অবিস্মরণীয় প্রতীক। ১৮৮৬ সালের শিকাগোর হে-মার্কেটের রক্তঝরা ইতিহাস মানবজাতিকে এক গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা দেয়—শ্রমিকের অধিকার কখনো দয়া করে দেওয়া হয়নি; তা সংগ্রামের মাধ্যমেই অর্জিত হয়েছে। সেই চেতনা ধারণ করেই বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এই দিবসকে শুধুমাত্র আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ না রেখে অতীতের অভিজ্ঞতা পর্যালোচনা করে ভবিষ্যতের পথরেখা নির্ধারণ করা জরুরি।

বাংলাদেশের অর্থনীতির মেরুদণ্ড শ্রমজীবী মানুষ। কৃষি, শিল্প, তৈরি পোশাক, পরিবহন, নির্মাণ কিংবা প্রবাস—সবখানেই শ্রমিকদের ঘামে গড়ে উঠেছে উন্নয়নের ভিত। তবে এই শ্রমজীবী শ্রেণির একটি বড় অংশ এখনও ন্যায্য মজুরি, নিরাপদ কর্মপরিবেশ ও সামাজিক নিরাপত্তার চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। এই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে বিভিন্ন সরকারের ভূমিকা মূল্যায়ন করা প্রয়োজন, বিশেষ করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) সরকারের সময়ের উদ্যোগগুলো গুরুত্বের দাবি রাখে।

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান যে অর্থনৈতিক দর্শন গ্রহণ করেছিলেন, তার কেন্দ্রে ছিল উৎপাদন ও কর্মসংস্থান। “গ্রামই শক্তি”—এই ধারণাকে সামনে রেখে তিনি খাল খনন, সেচব্যবস্থা ও গ্রামীণ সড়ক নির্মাণের মাধ্যমে বিপুল কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেন। তার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অবদান ছিল আন্তর্জাতিক শ্রমবাজার উন্মুক্ত করা। মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশি শ্রমিকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি আজকের রেমিট্যান্সনির্ভর অর্থনীতির ভিত্তি।

পরবর্তীতে বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন সরকার তৈরি পোশাক খাতের বিকাশে নীতিগত সহায়তা দিয়ে লক্ষাধিক শ্রমিকের, বিশেষ করে নারীদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করে। এ সময় মজুরি বোর্ড সক্রিয় করা এবং বিচ্ছিন্ন শ্রম আইনগুলোকে একত্রিত করে একটি সমন্বিত কাঠামোর উদ্যোগ নেওয়া হয়, যা ২০০৬ সালের শ্রম আইনে রূপ নেয়। এছাড়া প্রবাসী শ্রমিকদের কল্যাণে ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ তহবিলের কার্যক্রম সম্প্রসারণ ও কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (টিটিসি) স্থাপনের মাধ্যমে দক্ষতা উন্নয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।

বর্তমানে চতুর্থ শিল্পবিপ্লব ও অটোমেশনের যুগে শ্রমিকদের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে শ্রম আইন বাস্তবায়ন, সর্বজনীন সামাজিক নিরাপত্তা এবং দক্ষতা উন্নয়নে বিনিয়োগ বাড়ানো অপরিহার্য। রাজনৈতিক অঙ্গীকারের ক্ষেত্রেও ন্যায্য মজুরি ও ট্রেড ইউনিয়নের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। পরিশেষে, শ্রমিক কল্যাণ কোনো দলীয় ইস্যু নয়, বরং এটি একটি জাতীয় অগ্রাধিকার। শ্রমিকের অধিকার ও ঘাম যেন সম্মানের সাথে মূল্যায়িত হয়, মে দিবসের এই দিনে এটাই হোক মূল অঙ্গীকার।

আই.এ/সকালবেলা

মন্তব্য করুন