টঙ্গীর শিক্ষক মারধরের ঘটনায় বামপন্থিরা জড়িত: জুবায়ের আহমাদ তাশরীফ

প্রকাশ: শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ০১:৪৬ অপরাহ্ণ
টঙ্গীর শিক্ষক মারধরের ঘটনায় বামপন্থিরা জড়িত: জুবায়ের আহমাদ তাশরীফ
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচিত ইসলামি বক্তা হাফেজ ক্বারী জুবায়ের আহমাদ তাশরীফের একটি ফাইল ছবি।

নিজস্ব প্রতিবেদক: গাজীপুরের টঙ্গীতে ছয় বছর বয়সী এক মাদ্রাসাছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে প্রতিষ্ঠানের এক শিক্ষককে মারধরের ঘটনা নিয়ে নতুন রাজনৈতিক বিতর্ক ও আলোচনার জন্ম দিয়েছেন আলোচিত ইসলামি বক্তা হাফেজ ক্বারী জুবায়ের আহমাদ তাশরীফ। তিনি দাবি করেছেন, টঙ্গীর এই অনভিপ্রেত ঘটনার সঙ্গে বামপন্থিরা জড়িত রয়েছেন।

গত শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একটি ভিডিওবার্তা পোস্ট করে তিনি এই চাঞ্চল্যকর দাবি করেন। যদিও তাঁর এই দাবির পক্ষে তিনি সুনির্দিষ্ট কোনো প্রমাণ বা তথ্য গণমাধ্যমের সামনে তুলে ধরেননি। ভিডিওর ক্যাপশনে তিনি লেখেন, ‘টঙ্গীর ঘটনার সাথে জড়িত বামপন্থিরা।’

এর আগে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে ময়মনসিংহের ভালুকায় পোশাকশ্রমিক দীপু চন্দ্র দাসকে ভুল তথ্যের জেরে পিটিয়ে হত্যার সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উসকানিমূলক পোস্ট দিয়ে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন এই বক্তা। পরে অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণিত হলে তিনি পোস্ট সরিয়ে নেন।

টঙ্গীর মাদ্রাসাশিক্ষককে চড় মারার ঘটনা নিয়ে সাম্প্রতিক ভিডিওতে জুবায়ের আহমাদ তাশরীফ বলেন, “টঙ্গীতে একটা ঘটনা ঘটল। একজন আলেম, একজন কোরআনের শিক্ষককে একজন বেধড়ক পেটাল। এরপরে হুজুর অসুস্থ হয়ে গেল, আর কিছু জনগণ বাহাবা দিচ্ছে। বিষয়টা কী ছিল? একটা ছোট্ট মেয়েকে সে একটা চুমু দিছে, নাকি একটু কোলে নিছে—এটাই ছিল তার দোষ। বলতেছে, ‘ধর্ষণ কইরা ফেলাইছে!’ ধর্ষণ করে ফেলছে, এটা করছে, ওটা করছে—আরে প্রমাণ দেখান!”

ওই ঘটনার পর অভিভাবকের প্রতিক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি আরও বলেন, “ওই অভিভাবক মিডিয়ার সামনে বলল, ‘হুজুরগুলা এমনই হয়, নাউজুবিল্লাহ’। তার মানে আলেমদের বিরুদ্ধে আগে থেকেই তার মনে ছিল বুকভরা ঘৃণা। তার মনের ভেতরে আগে থেকেই ছিল নেফাকি। আলেমের গায়ে হাত তুলে সে আইনকে হাতে তুলে নিয়েছে।”

তবে ভিডিওর একপর্যায়ে তিনি এও স্পষ্ট করেন যে, যদি কোনো শিক্ষক মাদ্রাসায় বলাৎকার বা গুরুতর অপরাধ করেন, তবে তাঁর সর্বোচ্চ আইনি শাস্তি হওয়া উচিত। তিনি বলেন, “যদি কোনো হুজুর মাদ্রাসায় বলাৎকার করে, তাকেও কুকুরের মতো পিটানো দরকার। মাদ্রাসায় যদি একজন হুজুরের কারণে সমস্ত হুজুরের বদনাম হয়, ওই হুজুরের শাস্তি আমরা অবশ্যই চাই। সর্বোচ্চ শাস্তি দিতে হবে।”

এদিকে, এই ভিডিও প্রকাশের পর শনিবার (২৪ অক্টোবর) দুপুরে ফেসবুকে দেওয়া আরেকটি নতুন পোস্টে তিনি মন্তব্য করেন, “নাবালক ছোট বাচ্চাকে চুমু দেওয়া ১০০ বার জায়েজ। তবে খারাপ উদ্দেশ্যে নয়।” তাঁর এই বক্তব্য অনলাইনে আরও বেশি আলোচনা ও সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।

উল্লেখ্য, গত বুধবার (২১ অক্টোবর) দুপুরে গাজীপুরের টঙ্গীর আউচপড়া এলাকার করিউল কোরআন ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসায় ছয় বছর বয়সী এক শিশু শিক্ষার্থীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে প্রতিষ্ঠানের ভাইস প্রিন্সিপাল মুসলেউদ্দিনকে চড় মারার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়। ভুক্তভোগী শিশুর পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ অভিযুক্ত শিক্ষককে ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার করেছে। বর্তমানে বিষয়টি নিয়ে আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।