‘বার্সা আমার জীবনের ক্লাব’

প্রকাশ: শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ০১:৪৬ অপরাহ্ণ
‘বার্সা আমার জীবনের ক্লাব’

স্পোর্টস ডেস্ক: লিওনেল মেসির বর্ণাঢ্য ফুটবল ক্যারিয়ারের সবচেয়ে সোনালি ও গৌরবময় সময় কেটেছে স্প্যানিশ জায়ান্ট বার্সেলোনায়। মর্যাদাপূর্ণ ‘প্রিন্সেস অব আস্তুরিয়াস’ পুরস্কার গ্রহণ করতে ফের স্পেনে ফিরে সেই কাটানো দিনগুলোর স্মৃতিকাতরতায় ভাসলেন আর্জেন্টাইন এই মহাতারকা। নির্দ্বিধায় স্বীকার করলেন, বার্সেলোনা তাঁর জীবনের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ।

হাজারো ভক্তের ভালোবাসা ও বর্ণাঢ্য অভ্যর্থনার মধ্য দিয়ে স্ত্রী আন্তোনেলা রোকুজ্জুকে সঙ্গে নিয়ে গত বৃহস্পতিবার স্পেনের ওভিয়েদো শহরে পৌঁছান মেসি। সেখানে আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর হাতে ‘প্রিন্সেস অব আস্তুরিয়াস অ্যাওয়ার্ড ফর স্পোর্টস ২০২৬’ তুলে দেওয়া হয়। ফুটবলে অভাবনীয় অর্জন এবং বিশ্বজুড়ে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবায় নিজের দাতব্য ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে টানা অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তাঁকে এই পুরস্কারে ভূষিত করা হয়। ১৯৮১ সাল থেকে আটটি বিভিন্ন বিভাগে মানবকল্যাণে কাজ করা বিশ্বখ্যাত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে স্পেনের ঐতিহ্যবাহী এই পুরস্কার দেওয়া হয়।

পুরস্কার প্রাপ্তি নিয়ে স্প্যানিশ বার্তা সংস্থা ইএফই-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ৩৯ বছর বয়সী মেসি জানান, এই সম্মাননার পেছনে তাঁর প্রয়াত পিতা হোর্হে মেসির গভীর অবদান রয়েছে। চলতি বছরের গত আগস্টে হোর্হে মেসি মারা যান। মেসি বলেন, "আমার বাবা এই পুরস্কার নিয়ে ভীষণ রোমাঞ্চিত ছিলেন। খেলার ব্যস্ত শিডিউল থাকায় এখানে আসা কঠিন ছিল, কিন্তু আমি যেন অবশ্যই এই পুরস্কার নিতে স্পেনে আসি— সেজন্য তিনি মৃত্যুর আগে জোর তাগাদা দিয়ে গেছেন। বাবা এটা খুব উপভোগ করছিলেন, তাই আমি নিশ্চিত যে তিনি ওপর থেকেও আজ এটি উপভোগ করছেন।"

পিতার স্মৃতির পাশাপাশি মেসি আলোকপাত করেন তাঁর প্রিয় ক্লাব বার্সেলোনার ওপর। ২০০০ সালে কিশোর বয়সে কাতালান ক্লাবটিতে যোগ দিয়ে ২০২১ সালে অর্থনৈতিক বাধ্যবাধকতায় চোখের জলে ক্লাব ছাড়তে হয়েছিল তাঁকে। বার্সায় কাটানো ট্রফিভরা সোনালি দিনগুলোর কথা স্মরণ করে মেসি বলেন, "আমরা ভাগ্যবান ছিলাম যে বার্সায় আমরা সবকিছু জিতেছিলাম। যেভাবে আমরা ফুটবল খেলেছি, জয় উপভোগ করেছি— তা ছিল অসাধারণ।" সাক্ষাৎকার শেষে বার্সেলোনা তাঁর জীবনে ঠিক কতখানি স্থান দখল করে আছে— তা সংক্ষেপে জানতে চাইলে মেসি আবেগভরে বলেন, "অল্প কথায় বলা কঠিন, বার্সেলোনা আমার জীবনের ক্লাব।"

সকালবেলা / নুসরাত