এনডিটিভিতে সাক্ষাৎকার: এ বছরই দেশে ফিরতে চান শেখ হাসিনা

প্রকাশ: রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬, ০৩:৫৮ অপরাহ্ণ
এনডিটিভিতে সাক্ষাৎকার: এ বছরই দেশে ফিরতে চান শেখ হাসিনা
শেখ হাসিনা। ছবি: সংগৃহীত

অনলাইন ডেস্ক: ভারতে অবস্থানরত বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বলেছেন, সব ধরনের বাধা, আইনি প্রতিবন্ধকতা ও রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করে তিনি চলতি বছরের (২০২৬) মধ্যেই স্বদেশে ফিরবেন। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ‘এনডিটিভি’ (NDTV)-কে দেওয়া এক বিশেষ ই-মেইল সাক্ষাৎকারে তিনি এই বিস্ফোরক ঘোষণা দেন।

শেখ হাসিনা বলেন, “দেশে ফেরা আমার ব্যক্তিগত কোনো উচ্চাকাঙ্ক্ষা বা ক্ষমতার লোভের বিষয় নয়; বরং বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের মৌলিক রাজনৈতিক অধিকার, গণতন্ত্র, আইনের শাসন এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনা পুনঃপ্রতিষ্ঠার লড়াইয়ের সঙ্গে এটি ওতপ্রোতভাবে জড়িত।”

সাক্ষাৎকারে নিজের বিরুদ্ধে বাংলাদেশে হওয়া মামলার রায় নিয়ে তীব্র ক্ষোভ ও আপত্তি জানান আওয়ামী লীগ সভাপতি। তিনি দাবি করেন, তাঁর বিরুদ্ধে দেওয়া এসব রায় ও আইনি প্রক্রিয়া কোনো বিচার নয়, বরং সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত একটি সাজানো নাটক। দেশের বিচারব্যবস্থাকে রাজনৈতিক প্রতিশোধের সস্তা হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে এবং সুপরিকল্পিতভাবে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগকে সম্পূর্ণ নেতৃত্বশূন্য করার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে।

হুমকি ও সাজার মুখোমুখি হওয়া প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, “আমি মৃত্যুকে ভয় পাই না। ১৯৭৫ সালে আমি আমার বাবা-মা, ভাইসহ প্রায় পুরো পরিবারকে হারিয়েছি। ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় আমাকে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছিল। অসংখ্য ষড়যন্ত্র হয়েছে। কিন্তু প্রতিবারই আমি মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছি।”

সাক্ষাৎকারে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক শক্তি ও ঐতিহাসিক গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ কোনো কাগুজে সংগঠন নয়, বরং এটি বাংলার মাটি, মানুষ এবং জাতীয় ইতিহাসের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত একটি গভীর রাজনৈতিক শক্তি। দলটির দীর্ঘ ৭৭ বছরের ইতিহাসে বহুবার নিষেধাজ্ঞা, হামলা, রক্তপাত ও নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে, কিন্তু প্রতিবারই ফিনিক্স পাখির মতো জনগণের অকুণ্ঠ শক্তিতে দলটি পুনরায় ঘুরে দাঁড়িয়েছে।

বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতির কঠোর সমালোচনা করে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশে বর্তমানে গণতন্ত্র, আইনের শাসন ও জননিরাপত্তার চরম সংকট তৈরি হয়েছে। দেশের অর্থনীতি ক্রমান্বয়ে দুর্বল হয়ে পড়ছে, উগ্রবাদের উত্থান ঘটছে এবং সংখ্যালঘুরা প্রতিনিয়ত পরিকল্পিত হামলার শিকার হচ্ছে।

সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান, আদিবাসী ও অন্যান্য সম্প্রদায়ের ওপর হামলার ঘটনাগুলো অত্যন্ত উদ্বেগজনক। সংখ্যালঘুদের ওপর আক্রমণ শুধু একটি সুনির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে নয়, বরং এটি বাংলাদেশের মূল স্বাধীনতার চেতনার ওপর একটি বড় আঘাত।

দলটির রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক পুনরুত্থান বা পথচলা কোনো নির্দিষ্ট সরকারের অনুগ্রহ বা দয়ার ওপর মোটেও নির্ভর করে না; বরং তা একমাত্র জনগণের নিঃশর্ত সমর্থনের ওপর নির্ভরশীল। তিনি দাবি করেন, শত নিষেধাজ্ঞা, হাজারো মামলা ও চরম দমন-পীড়ন সত্ত্বেও দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সাধারণ মানুষের হৃদয়ে আওয়ামী লীগের সমর্থন এবং নেতাকর্মীদের সুপ্ত কর্মসূচি অব্যাহত রয়েছে। সাক্ষাৎকারে তিনি অবিলম্বে আওয়ামী লীগের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে দায়ের করা সব মামলা প্রত্যাহার এবং স্বাধীনভাবে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার সুযোগ নিশ্চিত করার জোর আহ্বান জানান।

বর্তমানে ভারতে অবস্থান করা নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, তিনি প্রবাসে থাকলেও এবং নিয়মিত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখলেও তাঁর মন সবসময় বাংলাদেশেই পড়ে থাকে। দেশের সাধারণ মানুষ, তৃণমূলের দলীয় নেতাকর্মী এবং দেশের সামগ্রিক গণতান্ত্রিক পরিস্থিতি তিনি দূর থেকেই অত্যন্ত নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন।

নিজের রাজনৈতিক লড়াইয়ের কথা স্মরণ করে তিনি শেষাংশে বলেন, “আমার মূল শক্তি হলো বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ, তৃণমূলের কোটি নেতাকর্মী এবং সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি বঙ্গবন্ধুর আদর্শ। সেই অদম্য শক্তি নিয়েই আমি বাংলাদেশে গণতন্ত্র ও অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার সংগ্রাম শেষ পর্যন্ত চালিয়ে যাচ্ছি।”

মন্তব্য করুন