আন্দোলনকারীদের বাড়িঘর পুড়িয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন হাসিনা
নিজস্ব প্রতিবেদক: ২০২৪ সালের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও রক্তক্ষয়ী জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালে আন্দোলনকারীদের বাড়িঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খুঁজে বের করে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার প্রত্যক্ষ নির্দেশ দিয়েছিলেন ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
উক্ত অপরাধমূলক নির্দেশনাসহ আন্দোলন দমনে হেলিকপ্টার ব্যবহার এবং সহিংসতার দায় আন্দোলনকারীদের ওপর চাপিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা সংবলিত একাধিক স্পর্শকাতর অডিও ফোনালাপ আজ মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে প্রমাণ হিসেবে জমা দেওয়া হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর বিচারিক প্যানেলে শেখ হাসিনার সঙ্গে সাবেক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এবং সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাছান মাহমুদের এসব অডিও কথোপকথন পেশ করে প্রসিকিউশন টিম।
বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল বেঞ্চে প্রসিকিউশনের পক্ষে অডিওর কপি উপস্থাপন করে এর আইনি গুরুত্ব ও প্রাসঙ্গিকতা নিয়ে বিস্তারিত যুক্তি তুলে ধরেন প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামিম।
আদালতে পেশকৃত অডিও রেকর্ডিংয়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে উত্তেজিত কণ্ঠে বলতে শোনা যায়, “আর ওদের—ওরা আগুন দিচ্ছে, ওদের বাড়িঘর নেই? এখন আর বসে থাকার সময় নেই। আমাদেরও বাড়িঘরে আগুন দিচ্ছে, ওদের বাড়িঘরে আগুন। পাবলিক দেবে। ওদের—ওদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান কি কি আছে খুঁজে বার করো।”
শেখ হাসিনার এই নির্দেশনার জবাবে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ও মন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরকে প্রতিউত্তরে সম্মতি জানিয়ে কেবল ‘আচ্ছা’ বলতে শোনা যায়।
ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের জমা দেওয়া নথি অনুযায়ী, অডিও রেকর্ডগুলো ২০২৪ সালের ১৯ এবং ২১ জুলাইয়ে রেকর্ড করা। তৎকালীন আন্দোলন চলাকালে রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে জমায়েত ও বিক্ষোভকারীদের ওপর সামরিক বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হেলিকপ্টার থেকে তাজা গুলি ও রাসায়নিক ছেটানোর নির্দেশ দেওয়ার তথ্যও এই কথোপকথনে উঠে এসেছে। একই সঙ্গে আন্দোলনকারীদের ওপর পুরো সহিংসতার দায় চাপানোর সুপরিকল্পিত কৌশল নিয়েও শেখ হাসিনাকে তাঁর মন্ত্রিপরিষদের গুরুত্বপূর্ণ সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করতে শোনা গেছে।
প্রসিকিউশন থেকে জানানো হয়েছে, বিগত সরকারের শাসনামলে সংঘটিত গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের সুনির্দিষ্ট বিচারিক প্রক্রিয়ায় এসব মূল অডিও রেকর্ডকে প্রাথমিক ও গুরুত্বপূর্ণ ডিজিটাল আলামত হিসেবে নথিভুক্ত করেছে ট্রাইব্যুনাল।
|