জামায়াত আমির গণহত্যার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন: রাশেদ খান
অনলাইন ডেস্ক: আওয়ামী লীগ সরকারের আমলের বহুল আলোচিত ২৪-এর গণ-অভ্যুত্থানে গণহত্যার অন্যতম মদদদাতা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানকে 'বীর' হিসেবে আখ্যায়িত করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির কার্যত গণহত্যার পক্ষেই অবস্থান নিয়েছেন বলে গুরুতর অভিযোগ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী ও বিএনপি নেতা রাশেদ খান।
রবিবার (৪ অক্টোবর) সকালে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক আবেগঘন ও তীক্ষ্ণ পোস্টের মাধ্যমে তিনি জামায়াত আমিরের এই মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ ও সমালোচনা প্রকাশ করেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সেই পোস্টে রাশেদ খান বলেন, ‘জামায়াতের আমির গণ-অভ্যুত্থানের মাত্র এক মাসের মাথায় রাজপথের আন্দোলন ভুলে প্রকাশ্যে আওয়ামী লীগকে সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করেছিলেন। এর মধ্য দিয়ে তিনি কি পরোক্ষভাবে স্বৈরাচার ও গণহত্যার মূল নির্দেশদাতা শেখ হাসিনাকেও ক্ষমা করে দেননি? আজকে যিনি মেজর আখতারুজ্জামানের মতো বিতর্কিত চরিত্রের জন্য কাঁদছেন, ভবিষ্যতে রাজনৈতিক স্বার্থে তিনি শেখ হাসিনার জন্যও চোখের জল ফেলতে পারেন। মূলত জামায়াতের রাজনৈতিক চরিত্রই এমন দ্বিচারিতায় ভরা।’
একাত্তরের ইতিহাস টেনে বিএনপির এই উদীয়মান নেতা আরও লেখেন, ‘আমার ধারণা, ৭১-এর রক্তক্ষয়ী গণহত্যার সহযোগী হওয়ার ঐতিহাসিক পেছনের কারণে ২৪-এর এই ভয়াবহ গণহত্যা জামায়াতের রাজনৈতিক বিবেচনার কাছে একটি অত্যন্ত ঠুনকো ও মামুলি বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে! যার একটি বাস্তব উদাহরণ হলো, মেজর আখতারুজ্জামানের প্রতি জামায়াতের আমির ও দলটির নেতাকর্মীদের হঠাৎ উপচে পড়া ছদ্ম মায়াকান্না।’
মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের আইনি জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে রাশেদ খান লেখেন, ‘২৪-এর রক্তক্ষয়ী গণহত্যার সহযোগী ও মদদদাতা হিসেবে মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের বিরুদ্ধে অবিলম্বে হত্যা মামলা দায়ের হওয়া উচিত। এ ধরনের মামলা কোনো ভুক্তভোগী দায়ের করলে সেটিকে আদালতে কীভাবে মোকাবিলা করবে জামায়াত? নাকি জামায়াতে নতুন করে যোগদান করার সুবাদে মেজর আখতারুজ্জামানের অতীত ও বর্তমানের সব অপরাধ রাতারাতি মাফ হয়ে গেছে? দেশের মানুষ জানতে চায়, সত্যি কি জামায়াতে ইসলামী এখন চিহ্নিত অপরাধীদের পুনর্বাসন করার কারখানায় পরিণত হতে চাইছে?’