ফ্যাসিস্ট সরকার দেশের সব প্রতিষ্ঠান ও অর্থনীতি ধ্বংস করে গেছে: প্রধানমন্ত্রী
বাসস: বর্তমান সময়কে বড় একটি রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক যুদ্ধক্ষেত্র হিসেবে আখ্যায়িত করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, "এই কঠিন পরিস্থিতিতে টিকে থাকতে হলে আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।" তিনি আরও বলেন, দেশ আজ এক অত্যন্ত ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, কারণ বিগত ফ্যাসিস্ট সরকার দেশের প্রায় প্রতিটি প্রতিষ্ঠান এবং সামগ্রিক অর্থনীতিকে ধ্বংস করে দিয়ে গেছে।
আজ বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই ২০২৬) দুপুরে সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জনপ্রশাসন সভাকক্ষে দেশের সমতল অঞ্চলে বসবাসকারী ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর প্রতিনিধিদের সঙ্গে আয়োজিত এক বিশেষ বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
বৈঠকে বিগত সরকারের চরম দুর্নীতি ও অর্থপাচারের চিত্র তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, "পূর্ববর্তী স্বৈরাচারী সরকারের আমলে প্রতিবছর দেশ থেকে গড়ে ১৬ বিলিয়ন ডলার পাচার করা হতো। যদি এই বিপুল পরিমাণ অর্থ এভাবে বিদেশে পাচার না হতো, তবে দেশের সাধারণ মানুষের এবং বিশেষ করে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর অনেক মৌলিক সমস্যার সমাধান অনেক আগেই হয়ে যেত। আমাদের সরকার এখন পর্যায়ক্রমে যে সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধানযোগ্য, সেগুলো আগে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নিরসন করার চেষ্টা করছে।"
সভায় প্রধানমন্ত্রী একটি সুখী, সমৃদ্ধ ও বৈষম্যহীন নতুন বাংলাদেশ গড়ার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীকে দেশের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, "আমরা এমন একটি সমতাভিত্তিক রাষ্ট্র গড়ে তুলতে কাজ করছি, যেখানে কোনো জাতি, ধর্ম বা গোষ্ঠীর প্রতি বিন্দুমাত্র বৈষম্য থাকবে না। সবার জন্য একটি সুন্দর বাংলাদেশ বিনির্মাণে আমরা কাউকে আলাদা না ভেবে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে এগিয়ে যেতে চাই।"
বৈঠকে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর প্রতিনিধিরা তাঁদের দীর্ঘদিনের কিছু দাবি প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর জন্য একটি পৃথক ভূমি কমিশন গঠন করা। সমতলের অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর জন্য জাতীয় কনভেনশনের আয়োজন। ‘ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী’ শব্দের পরিবর্তে নিজ নিজ জাতিভিত্তিক পরিচয়ের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি। আদিবাসী হিসেবে সাংবিধানিক স্বীকৃতি ও আইনগতভাবে ভূমির মালিকানা প্রতিষ্ঠা করা। কেন্দ্রীয় কালচারাল সেন্টার প্রতিষ্ঠা এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য সহজ শর্তে ঋণের ব্যবস্থা করা। বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প বা রিজার্ভ ফরেস্টের নামে আদিবাসীদের পৈতৃক বসতভিটা থেকে উচ্ছেদ বন্ধ করা।
প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত মনোযোগ সহকারে তাঁদের প্রতিটি দাবি শোনেন এবং পর্যায়ক্রমে এসব সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দেন।
বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের শাসন আমলের সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, "তারা দেশের পুরো একটি প্রজন্মকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিয়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের যে যাত্রা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান শুরু করেছিলেন, পরবর্তী সময়ে বেগম খালেদা জিয়ার হাত ধরে তা ৫০ শয্যায় উন্নীত হয়। অথচ আগের সরকার কেবল লোকদেখানো ইউনিয়নভিত্তিক কমিউনিটি ক্লিনিক তৈরি করেছিল, যেগুলোর বাস্তবে কোনো কার্যকর কার্যক্রম নেই। আমরা এখন উপজেলা হাসপাতালগুলোকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।"
প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, দেশের সাধারণ মানুষের চিকিৎসা সেবা সহজলভ্য করতে আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরে স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি করা হবে। একই সাথে কিডনি ডায়ালাইসিস ও হার্টের রিংসহ সব ধরনের জরুরি চিকিৎসাসামগ্রীর ওপর আরোপিত কর হ্রাস করার বিষয়েও কাজ করছে সরকার।
বৈঠকে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী সম্প্রদায়ের প্রথম সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্য আন্না মিনজ এবং বিশিষ্ট সংস্কৃতিকর্মী সঞ্জীব দ্রংসহ দেশের ১৭টি জেলার ১৮টি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর প্রতিনিধিরা।
এআইএল/সকালবেলা
|