‘মাননীয়’ নয় শুধু ‘প্রধানমন্ত্রী’: নিজের দপ্তরেই নিয়ম কার্যকর করলেন তারেক রহমান

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:২৮ অপরাহ্ণ
‘মাননীয়’ নয় শুধু ‘প্রধানমন্ত্রী’: নিজের দপ্তরেই নিয়ম কার্যকর করলেন তারেক রহমান
নিজের দপ্তরে দাপ্তরিক কাজে ব্যস্ত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

নিজস্ব প্রতিবেদক: সরকারি নথিপত্রে পদবির আগে ‘মাননীয়’ বা কোনো ধরনের আড়ম্বরপূর্ণ সম্মানসূচক শব্দ লিখিতরূপে ব্যবহার না করার সিদ্ধান্ত নিজের দপ্তর থেকেই সরাসরি কার্যকর করা শুরু করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সাথে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য প্রযোজ্য প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলা অনুসরণে তিনি নিজেও নিয়মিত দিচ্ছেন ডিজিটাল হাজিরা।

আজ বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬) সকাল থেকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সকল প্রকার সারসংক্ষেপ, নথি, চিঠি ও অভ্যন্তরীণ ফাইলে তাঁর পদবির আগে ‘মাননীয়’ শব্দ বাদ দিয়ে কেবল ‘প্রধানমন্ত্রী’ লেখার প্রক্রিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে বলে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ নিশ্চিত করেছে।

এর আগে গতকাল বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সাধারণ অধিশাখা থেকে জারি করা এক বিশেষ পরিপত্রে জানানো হয়, প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীদের সাথে দাপ্তরিক যোগাযোগ, নথিপত্র প্রস্তুত এবং নীতিগত সারসংক্ষেপ উপস্থাপনের ক্ষেত্রে তাঁদের পদবির পূর্বে ‘মহামান্য’, ‘মাননীয়’ কিংবা অন্য কোনো সম্মানসূচক বিশেষণ লিখিতরূপে আর ব্যবহার করা যাবে না।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের এই সিদ্ধান্ত যাতে কেবল কাগুজে নির্দেশনায় সীমাবদ্ধ না থাকে, সেজন্য প্রধানমন্ত্রী নিজেই নিজ দপ্তর থেকে এর সফল বাস্তবায়ন শুরু করার কড়া নির্দেশ দিয়েছেন। এর ফলে আজ থেকে তাঁর কাছে উপস্থাপন করা প্রতিটি সরকারি ফাইলে ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী’র পরিবর্তে দাপ্তরিকভাবে শুধুই ‘প্রধানমন্ত্রী’ লেখা হচ্ছে। কর্মকর্তাদের মতে, এর মাধ্যমে আলংকারিক বিশেষণের চেয়ে দায়িত্ব, জনসেবা এবং জনগণের প্রতি নিখাদ দায়বদ্ধতাকে সামনে আনার একটি সুদূরপ্রসারী বার্তা দিয়েছেন সরকারপ্রধান।

এদিকে প্রশাসনিক অনুশাসন ও সময়ানুবর্তিতা নিশ্চিত করতে এক অনন্য নজির সৃষ্টি করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজ সকালে সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে প্রবেশের সময় তিনি সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মতোই নির্ধারিত মেশিনে ডিজিটাল হাজিরা প্রদান করেন। একইভাবে দিনের কর্মঘণ্টা শেষে কার্যালয় ত্যাগ করার সময়ও নির্ধারিত বায়োমেট্রিক/ডিজিটাল পদ্ধতিতে এক্সিট হাজিরা দিয়ে অফিস ছাড়ছেন তিনি। সরকারপ্রধান হয়েও সাধারণ দাপ্তরিক নিয়মের অধীন নিজেকে সোপর্দ করার মাধ্যমে তিনি পুরো সিভিল প্রশাসনকে নিয়মানুবর্তিতার এক জোরালো বার্তা দিলেন।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের একাধিক কর্মকর্তা এ প্রসঙ্গে জানান, প্রধানমন্ত্রীর এই ইতিবাচক ও আধুনিক দৃষ্টিভঙ্গি মূলত প্রশাসনে দীর্ঘদিনের লালফিতার দৌরাত্ম্য, অনিয়ম ও আড়ম্বর কমিয়ে কর্মক্ষেত্রে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার অংশ। রাষ্ট্র পরিচালনার শীর্ষ পদে থাকা ব্যক্তি যখন নিজেই সাধারণ নিয়মের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকেন, তখন মাঠপর্যায় পর্যন্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পক্ষে সেই নিয়ম মেনে চলা একটি নৈতিক দায়বদ্ধতায় পরিণত হয়।

উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণের পর থেকেই রাষ্ট্রীয় কাজে ব্যক্তিকেন্দ্রিক প্রবণতা হ্রাস ও অর্থের অপচয় রোধে ধারাবাহিক একাধিক প্রশংসনীয় সংস্কারমূলক পদক্ষেপ নিয়েছেন তারেক রহমান। সরকারি কোনো বিলবোর্ড, পোস্টার বা প্রচারণায় প্রধানমন্ত্রীর ছবি ব্যবহার নিষিদ্ধ করা, চলাচলের সময় সাধারণ নাগরিক ভোগান্তি কমাতে ট্রাফিক সিগন্যাল বন্ধ না রাখা এবং প্রটোকলের গাড়িবহরের সংখ্যা ন্যূনতম পর্যায়ে নামিয়ে আনা হয়েছে। এমনকি রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিক আয়োজন ছাড়া ব্যক্তিগত বা সাধারণ চলাচলে পতাকাবাহী গাড়ি ব্যবহার থেকেও বিরত থাকছেন তিনি। এসব সংস্কারের মাধ্যমে ভিআইপি সংস্কৃতির অবসানে একটি দৃশ্যমান পরিবর্তনের বার্তা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

মন্তব্য করুন