জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে ১৭৫ বাংলাদেশি শহীদ হয়েছেন: প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশ: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬, ১২:৩৬ অপরাহ্ণ
জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে ১৭৫ বাংলাদেশি শহীদ হয়েছেন: প্রধানমন্ত্রী
নিজস্ব প্রতিবেদক:জাতিসংঘের পতাকাতলে বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠা, মানবতা রক্ষা ও যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশগুলোতে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার মহান দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে এ পর্যন্ত বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনী ও পুলিশের ১৭৫ জন বীর শান্তিরক্ষী শহীদ হয়েছেন বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের এই সর্বোচ্চ আত্মত্যাগ প্রমাণ করে—শুধু নিজেদের মাতৃভূমির স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার্থেই নয়, বরং বিশ্বশান্তি ও মানবতার স্বার্থে পৃথিবীর যেকোনো প্রান্তে যেকোনো মূল্যে শান্তি বজায় রাখতে বাংলাদেশ সর্বদা বদ্ধপরিকর।

আজ বুধবার (১০ জুন) দুপুর ১২টা ১০ মিনিটে অনলাইন সংস্করণে প্রকাশিত ‘জাতীয় রাজনীতি, জনপ্রশাসন ও সরকারের নীতি’ এবং ‘প্রতিরক্ষা বাহিনী, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও জাতীয় নিরাপত্তা ট্র্যাকিং উইং’ বিভাগের বিশেষ যৌথ বুলেটিংয়ে সেনাকুঞ্জের মূল অনুষ্ঠান এবং প্রধানমন্ত্রীর দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্যের বিস্তারিত খতিয়ান তুলে ধরা হলো।

আজ বুধবার সকালে আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস-২০২৬ উপলক্ষ্যে ঢাকা সেনানিবাসের সেনাকুঞ্জে এক বিশেষ ও মর্যাদাপূর্ণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত হয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ১৯৮৮ সাল থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত বিশ্বশান্তির বেদীতে জীবন উৎসর্গকারী দেশ ও বিদেশের সকল সাহসী শান্তিরক্ষীদের গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার সঙ্গে স্মরণ করেন।

অনুষ্ঠানের এক আবেগঘন মুহূর্তে, বিগত ২০২৫ সালে আফ্রিকার দেশ সুদানে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে কর্তব্যরত অবস্থায় এক অতর্কিত সশস্ত্র হামলায় শাহাদাতবরণকারী বাংলাদেশের ৬ জন বীর সেনাসদস্যের স্ত্রীদের মঞ্চে ডেকে নেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি নিজ হাতে তাঁদের হাতে বিশেষ রাষ্ট্রীয় সম্মাননা স্মারক ও অনুদান তুলে দিয়ে গভীর সমবেদনা জানান। একই সাথে সুদানের ওই হামলায় এবং সম্প্রতি অন্যান্য চলমান মিশনগুলোতে দায়িত্ব পালনকালে গুরুতর আহত হওয়া সশস্ত্র বাহিনী ও পুলিশ বাহিনীর সদস্যদের হাতেও সাহসিকতার সম্মাননা স্মারক তুলে দেন সরকারপ্রধান। এর পরপরই প্রধানমন্ত্রী হলরুমে বসেই মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টরের মাধ্যমে বিশ্বের বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ দেশে শান্তিরক্ষা মিশনে নিয়োজিত বাংলাদেশ ব্লু হেলমেট কন্টিনজেন্টগুলোর সদস্যদের সঙ্গে সরাসরি ভার্চুয়ালি যুক্ত হন এবং তাঁদের সঙ্গে আন্তরিক কুশল ও শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁর বক্তব্যে আন্তর্জাতিক শান্তি মিশনে বাংলাদেশের গৌরবময় অবদানের খতিয়ান ও পরিসংখ্যান তুলে ধরে বলেন, “জাতিসংঘ শান্তিরক্ষাবাহিনীর সদস্য হিসেবে অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে ১৯৮৮ সাল থেকে এ পর্যন্ত আমাদের ১৭৫ জন শান্তিরক্ষী শহীদ হয়েছেন এবং অসংখ্য সদস্য পঙ্গুত্ব বরণ করে আহত হয়েছেন। আমি পরম করুণাময়ের দরবারে তাঁদের সকলের আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি। শুধু বাংলাদেশের জন্য নয়, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষাবাহিনীর সদস্য হিসেবে আমাদের শহীদদের এই বীরত্বপূর্ণ আত্মদান সমগ্র বিশ্বের যুদ্ধবিরোধী ও শান্তিকামী মানুষের হৃদয়ে এক চির উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে বেঁচে থাকবে।”

বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের বিশ্বজয়ের খতিয়ান উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, “আমি যতদূর জানতে পেরেছি, এ পর্যন্ত বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনী (সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনী) এবং পুলিশ বাহিনীর ২ লাখেরও বেশি যোগ্য শান্তিরক্ষী বিশ্বের ৪৩টি দেশের প্রায় ৬৩টি শান্তিরক্ষা মিশনে অত্যন্ত সাফল্য, সততা ও সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন শেষ করেছেন। আর বর্তমানেও প্রায় ৫ হাজার ৮৬০ জন বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ১০টি অত্যন্ত জটিল ও ঝুঁকিপূর্ণ মিশনে অত্যন্ত সততা, নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে বাংলাদেশের লাল-সবুজের পতাকা তুলে ধরে দায়িত্ব পালন করে চলেছেন।”

মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকার পর ক্যারিবীয় অঞ্চলেও বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীদের পদচারণা বাড়ছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্য শেষ করেন এই সুখবর দিয়ে যে, খুব শীঘ্রই হাইতিতে জাতিসংঘের একটি নতুন শান্তি মিশনে যোগ দেওয়ার জন্য বাংলাদেশ কন্টিনজেন্টের সব ধরণের আধুনিক প্রস্তুতি ও প্রশিক্ষণ সম্পন্ন হয়েছে।

জান্নাত সকালবেলা

মন্তব্য করুন