বিদ্যুৎ ও জ্বালানিসংকট বর্তমান সরকারের তৈরি নয়: প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর

প্রকাশ: রবিবার, ৩০ আগস্ট ২০২৬, ০৪:১৪ অপরাহ্ণ
বিদ্যুৎ ও জ্বালানিসংকট বর্তমান সরকারের তৈরি নয়: প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর
পটুয়াখালী ইপিজেড প্রকল্প পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলছেন প্রবাসী কল্যাণ ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর (ছবি: সংগৃহীত)।

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের চলমান বিদ্যুৎ ও জ্বালানিসংকট বিগত ছয় মাসের বর্তমান সরকার কিংবা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তৈরি করেননি বলে মন্তব্য করেছেন প্রবাসী কল্যাণ ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, এটি দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত একটি জাতীয় সমস্যা এবং এই সংকটকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক ফায়দা হাসিল কিংবা দেশকে অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টা কারও জন্যই কল্যাণ বয়ে আনবে না।

আজ রবিবার (৩০ আগস্ট ২০২৬) দুপুরে পটুয়াখালী রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা (ইপিজেড) প্রকল্প পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, “ঐতিহাসিক জুলাই গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী নতুন বাংলাদেশে সরকার ও বিরোধী দল—সবারই অত্যন্ত দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করা অপরিহার্য। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সরকারের নীতিগত বিভিন্ন বিষয়ে মতভিন্নতা ও গঠনমূলক সমালোচনা থাকতেই পারে। তবে বিরোধিতার নামে এমন কোনো হঠকারী রাজনৈতিক কর্মসূচি দেওয়া সমীচীন নয়, যাতে সামগ্রিকভাবে দেশ ও অর্থনীতি বড় ধরনের বিপর্যয়ের মুখে পড়ে।”

সরকারের দেশ পুনর্গঠন কার্যক্রমের চিত্র তুলে ধরে নুরুল হক নুর বলেন, “প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দল-মত ও রাজনৈতিক ভেদাভেদ ভুলে সর্বস্তরের জনগণকে সাথে নিয়ে দেশকে এগিয়ে নেওয়ার সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তিনি সরাসরি মাঠপর্যায়ে জনগণের কাছে গিয়ে তাদের অভাব-অভিযোগ ও বাস্তব সমস্যাগুলো জানার চেষ্টা করছেন।”

আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে দেশকে একটি মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই ভিত্তির ওপর দাঁড় করানো সম্ভব হবে বলে দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি বলেন, “পাঁচ বছরের সংক্ষিপ্ত সময়ে হয়তো রাতারাতি সবকিছু আমূল বদলে ফেলা সম্ভব নয়, তবে রাষ্ট্রকে সঠিক অর্থনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক গন্তব্যে অনেকটাই এগিয়ে নেওয়া নিশ্চিতভাবেই সম্ভব।”

জনসেবা ও উন্নয়ন প্রকল্প প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, তৃণমূলের প্রতিটি নাগরিকের কাছে মানসম্মত রাষ্ট্রীয় সেবা পৌঁছে দেওয়া এবং জনগণের কল্যাণ নিশ্চিত করাই সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। বিগত সময়ের মতো অপচয় রোধে স্থানীয় পর্যায়ে গ্রহণ করা বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের বাস্তব যৌক্তিকতা ও উপযোগিতা যাচাই করতে ইতিমধ্যে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে একটি বিশেষ সেল গঠন করা হয়েছে। এই সেলের চুলচেরা বিশ্লেষণের মাধ্যমেই কেবল জনকল্যাণমুখী প্রকল্পগুলোতে অর্থায়ন ও অনুমোদন দেওয়া হচ্ছে।

দুর্নীতি প্রতিরোধ ও সুশাসনের বিষয়ে সরকারের কঠোর অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করে তিনি বলেন, “বর্তমান সরকার সর্বস্তরে দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতিতে অটল রয়েছে। জনগণের কাছে রাষ্ট্রের প্রতিটি পয়সার জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার মাধ্যমেই স্বচ্ছ ও আধুনিক বাংলাদেশ গড়ে তোলা হবে।”

মন্তব্য করুন