জুলাই সনদ ও রাষ্ট্রপতি প্রশ্নে উত্তপ্ত হচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ

জুলাই সনদ ও রাষ্ট্রপতি প্রশ্নে উত্তপ্ত হচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা

গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে বহুল কাঙ্ক্ষিত জাতীয় নির্বাচনের পর আজ বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় শুরু হয়েছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন। তবে প্রথম দিনেই সংসদ অধিবেশনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক উত্তাপ ছড়িয়েছে। বিশেষ করে 'জুলাই সনদ' এবং রাষ্ট্রপতির ভাষণ ইস্যুতে সরকার ও বিরোধী পক্ষগুলোর মধ্যে এক ধরনের টানাপোড়েন স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। জানা গেছে, রাষ্ট্রপতির ভাষণের সময় ১১ দলীয় জোটের এমপিরা উপস্থিত থাকছেন না, যা সংসদীয় কার্যক্রমে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

অধিবেশন শুরুর আগে গত বুধবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে বিএনপির সংসদীয় দলের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। দুপুর ১টা ৩৫ মিনিটে শেষ হওয়া সেই বৈঠকে বিএনপি ও সমমনা দলের নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা অংশ নেন। তবে সেই বৈঠকেও ত্রয়োদশ সংসদের স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন নিয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। আজ অধিবেশন শেষে এই বিষয়ে বিস্তারিত জানা যেতে পারে বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।

অন্যদিকে, অন্তর্বর্তী সরকারের শাসনামলে জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশের ভাগ্যও এই অধিবেশনেই নির্ধারিত হবে। সংবিধান অনুযায়ী, সংসদের প্রথম অধিবেশন বসার ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে এই অধ্যাদেশগুলোকে আইনে রূপান্তর করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। তা না হলে এগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যাবে। এই আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা বর্তমান সংসদের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিচ্ছে।

সংসদ অধিবেশনের আগের দিন বুধবার চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি জানিয়েছেন, সরকার একটি কার্যকর ও প্রাণবন্ত সংসদ গড়তে চায়। তবে ডেপুটি স্পিকার কারাবন্দি অবস্থায় থাকা এবং দ্বাদশ সংসদের স্পিকারের পদত্যাগের ফলে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে এবারের অধিবেশনটি বেশ ব্যতিক্রমী ও উত্তেজনাপূর্ণ হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ২০২৬ সালের মার্চ মাসের এই রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে স্পিকার নির্বাচন এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে সংসদ উত্তাল হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। নির্বাচন-পরবর্তী পরিস্থিতি ও গণতান্ত্রিক কার্যক্রম নিয়ে অধিবেশনে ব্যাপক বিতর্ক হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

মন্তব্য করুন