স্কুলের ওপর ভেঙে পড়া গাছ ৪ মাসেও সরেনি

প্রকাশ: রবিবার, ১৬ আগস্ট ২০২৬, ০৪:১৬ অপরাহ্ণ
স্কুলের ওপর ভেঙে পড়া গাছ ৪ মাসেও সরেনি
সদরপুর সতের রশি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের টিনশেড ঘরের ওপর ভেঙে পড়ে থাকা বিশাল চাম্বল গাছ।
নিজস্ব প্রতিবেদক ঃ ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার সদর ইউনিয়নের সতের রশি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সেমিপাকা টিনশেড ঘরের ওপর কালবৈশাখী ঝড়ে উপড়ে পড়া একটি বিশাল চাম্বল গাছ দীর্ঘ চার মাসেও অপসারণ করা হয়নি। এতে ক্ষতিগ্রস্ত শ্রেণিকক্ষে পাঠদান সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। পাশাপাশি বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে গাছের ডালপালা ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকায় কোমলমতি শিক্ষার্থীদের খেলাধুলা ও বিনোদন চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও শিক্ষক সূত্রে জানা গেছে, গত ১৩ মে এক ভয়াবহ কালবৈশাখী ঝড়ে বিদ্যালয় ভবনের পেছনের বিশালাকার চাম্বল গাছটি সশব্দে টিনশেড ঘরের ওপর ভেঙে পড়ে। এতে ভবনটির টিনের চাল ও কাঠের পরিকাঠামো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। মারাত্মক দুর্ঘটনার ঝুঁকি এড়াতে তখন থেকেই ওই কক্ষে ক্লাস নেওয়া বন্ধ রাখা হয়েছে। ঘটনার প্রায় চার মাস অতিক্রান্ত হতে চললেও প্রশাসনিক জটিলতায় গাছটি এখনো সরানো সম্ভব হয়নি।

বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদ ও শিক্ষকবৃন্দ জানান, যেহেতু গাছটি সরকারি সম্পত্তির অন্তর্ভুক্ত, তাই প্রচলিত আইন ও সরকারি বিধিমালা অনুযায়ী বন বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের লিখিত অনুমতি ও নিলাম প্রক্রিয়া ছাড়া তা সরানো বা কাটা সম্ভব নয়। ফলে ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ নিজেরা উদ্যোগ নিয়ে গাছটি সরাতে পারছে না।

এ বিষয়ে সতের রশি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শহিদুর রহমান বলেন, "ঝড় হওয়ার পরপরই গত মে মাসে বিধি মোতাবেক গাছটি দ্রুত অপসারণ ও নিলামের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে লিখিত আবেদন জমা দিই। কিন্তু চার মাস পার হলেও কোনো সমাধান মেলেনি। ক্ষতিগ্রস্ত কক্ষটিতে প্রাক-প্রাথমিক (শিশু শ্রেণি) শাখার ক্লাস এবং আমাদের শিক্ষক মিলনায়তন হিসেবে ব্যবহৃত হতো। এটি মেরামত করা গেলে শ্রেণিকক্ষ সংকট কাটত। তাছাড়া প্রাঙ্গণে গাছের ডালপালা থাকায় শিশুরা মাঠে দৌড়াদৌড়িও করতে পারছে না।"

ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে সদরপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মামুনুর রশিদ জানান, "গাছ ভেঙে পড়ার পরেই বিষয়টি বন বিভাগকে আনুষ্ঠানিক চিঠির মাধ্যমে অবহিত করা হয়েছে। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী বন বিভাগ দ্রুত মূল্যায়ন ও নিলাম কার্যক্রম শেষ করলেই গাছটি অপসারণ করা সম্ভব হবে।"

এদিকে দীর্ঘ চার মাস ধরে গাছের নিচে ক্ষতিগ্রস্ত ভবন পড়ে থাকায় শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ বিঘ্নিত হচ্ছে বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় অভিভাবকরা। যেকোনো মুহূর্তে ছোটখাটো দুর্ঘটনার আশঙ্কাও প্রকাশ করছেন তাঁরা। কোমলমতি শিশুদের নিরাপদ শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে দ্রুততম সময়ে গাছটি সরিয়ে ঘরটি পুনর্নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থা ও প্রাথমিক শিক্ষার হালনাগাদ তথ্য জানতে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে চোখ রাখতে পারেন।

মন্তব্য করুন