জার্মানির সহযোগিতায় ৭০ হাজার কোটি রুপিতে ৬ সাবমেরিন বানাবে ভারত

প্রকাশ: রবিবার, ১৬ আগস্ট ২০২৬, ০৪:৪৯ অপরাহ্ণ
জার্মানির সহযোগিতায় ৭০ হাজার কোটি রুপিতে ৬ সাবমেরিন বানাবে ভারত
প্রজেক্ট ৭৫ (আই)-এর আওতায় প্রস্তুত হতে যাওয়া সাবমেরিনের প্রতীকী চিত্র।

অনলাইন ডেস্কঃ ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে কৌশলগত উপস্থিতি নিশ্চিত করা ও নৌবহরের সক্ষমতা বাড়াতে জার্মানির সহায়তায় ৬টি উচ্চপ্রযুক্তিসম্পন্ন সাবমেরিন নির্মাণের দিকে বড় পদক্ষেপ নিচ্ছে ভারত। বহু প্রতীক্ষিত ‘প্রজেক্ট ৭৫ (আই)’ বা 'প্রজেক্ট ৭৫ ইন্ডিয়া' কর্মসূচির অধীনে এসব ডিজেল-ইলেকট্রিক সাবমেরিন তৈরিতে ব্যয় ধরা হয়েছে আনুমানিক ৭০ হাজার কোটি ভারতীয় রুপি।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি-র এক বিশেষ প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, প্রস্তাবটি চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই ভারতের নিরাপত্তাবিষয়ক ক্যাবিনেট কমিটির (সিসিএস) টেবিলে উপস্থাপন করা হতে পারে। সিসিএস-এর সবুজ সংকেত মিললেই দুদেশের মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে এবং আনুষ্ঠানিকভাবে নির্মাণকাজ শুরু হবে।

প্রস্তাবিত নকশা অনুযায়ী, সাবমেরিনগুলো ভারতের মাটিতেই নির্মিত হবে। মুম্বাইয়ের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান মাজাগন ডক শিপবিল্ডার্স লিমিটেড (এমডিএল) ও জার্মানির খ্যাতনামা প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠান থাইসেনক্রুপ মেরিন সিস্টেমস (TKMS)-এর যৌথ অংশীদারত্বে এ রূপরেখা বাস্তবায়ন করা হবে।

এসব সাবমেরিনের অন্যতম বড় বৈশিষ্ট্য হতে যাচ্ছে উন্নত ‘এয়ার ইন্ডিপেন্ডেন্ট প্রপালশন’ (AIP) প্রযুক্তি। সাধারণ ডিজেল-ইলেকট্রিক সাবমেরিনের তুলনায় এই প্রযুক্তিসম্পন্ন সাবমেরিনগুলো ব্যাটারি রিচার্জের জন্য ঘন ঘন পানির ওপরে না উঠে বহু দিন পানির নিচে আত্মগোপন করে মিশন পরিচালনা করতে পারে। এছাড়া এতে আধুনিক সেন্সর, শক্তিশালী টর্পেডো, জাহাজ বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র ও অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম সংযুক্ত থাকবে।

এই মেগা প্রজেক্টের লক্ষ্য কেবল ৬টি সাবমেরিন যুক্ত করা নয়; বরং ভারতের অভ্যন্তরীণ প্রযুক্তি খাতকে স্বাবলম্বী করা। এর অধীনে প্রযুক্তি হস্তান্তরের (Transfer of Technology) মাধ্যমে ভবিষ্যতে নিজস্ব প্রযুক্তি ও নকশায় সাবমেরিন তৈরি, রক্ষণাবেক্ষণ ও আধুনিকায়নের সার্বিক সক্ষমতা তৈরি করবে ভারত।

ইতোমধ্যেই থাইসেনক্রুপ মেরিন সিস্টেমস ভারতের অভ্যন্তরীণ সরবরাহকারীদের সাথে চুক্তি জোরদার করছে। ভারী শ্রেণির টর্পেডো তৈরির জন্য হায়দরাবাদভিত্তিক ভিইএম টেকনোলজিসের সাথে এবং সাবমেরিনবিরোধী যুদ্ধপ্রযুক্তি নিয়ে সিএফএফ ফ্লুইড কন্ট্রোল লিমিটেডের সাথে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছে তারা।

চীন ভারত মহাসাগরে তাদের সাবমেরিন বহরের উপস্থিতি ও মহড়া উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করায় ভারতের নিজস্ব সাবমেরিন ঘাটতি পূরণের তাগিদ তৈরি হয়েছিল। উল্লেখ্য, এর আগে ফ্রান্সের নাভাল গ্রুপের কারিগরি সহায়তায় মাজাগন ডকে নির্মিত 'কালভারি' শ্রেণির ৬টি স্করপিন সাবমেরিন সফলভাবে ভারতীয় নৌবাহিনীতে যুক্ত হয়েছে।

মন্তব্য করুন